,

বন্যার পর রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের সমন্বিত পদক্ষেপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহলের সভাপতিত্বে জনতা ভবনে পর্যালোচনা সভা নিরাপদ খাওয়ার জল, জলের গুণমান পরীক্ষা ও জনসচেতনতায় গুরুত্ব বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : বন্যার পর হতে পারে এমন বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের সমন্বিতভাবে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আজ জনতা ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অসম…

স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহলের সভাপতিত্বে জনতা ভবনে পর্যালোচনা সভা নিরাপদ খাওয়ার জল, জলের গুণমান পরীক্ষা ও জনসচেতনতায় গুরুত্ব

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : বন্যার পর হতে পারে এমন বিভিন্ন রোগ, বিশেষ করে ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের সমন্বিতভাবে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আজ জনতা ভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অসম সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ তথা চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের মন্ত্রী অশোক সিংহলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় চরাইদেউ ও শিবসাগর জেলার বন্যা পরিস্থিতি ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় অসম সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের কমিশনার-সচিব ডাঃ পি. অশোক বাবু, জাতীয় স্বাস্থ্য অভিযান, অসমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ লক্ষ্মণন এস এবং জল জীবন মিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর কৈলাশ কার্তিক উপস্থিত ছিলেন। চরাইদেউ ও শিবসাগর জেলার জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের আধিকারিকরাও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভায় অংশ নেন।

বন্যার পর খাওয়ার জলের উৎস দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাওয়ায় সভায় নিরাপদ খাওয়ার জল সরবরাহ, জলের গুণমান পরীক্ষা, বিভিন্ন স্থান থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বন্যা কবলিত এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের মাধ্যমে সরবরাহ করা জল যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পানের উপযোগী হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিশেষ করে জলের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করার পাশাপাশি কোনো জলের উৎস পানের অনুপযোগী বলে চিহ্নিত হলে সেই উৎসের জল ব্যবহার না করার জন্য জনসাধারণকে অবিলম্বে সচেতন করার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। বন্যার পর ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জনসচেতনতা সৃষ্টিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়। আশাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী ও জলমিত্রের মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় নিরাপদ জল ব্যবহার, জল ফুটিয়ে বা উপযুক্তভাবে শোধন করে পান করা, খাবার আগে ও শৌচের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, খাবার পরিষ্কার ও ঢেকে রাখা এবং পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল বন্যা কবলিত মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও সহযোগিতায় কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে নিরাপদ খাওয়ার জল সরবরাহ, জলের গুণমান পর্যবেক্ষণ, জলের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে দুটি বিভাগকে যৌথভাবে কার্যক্রম নেওয়ার আহ্বান জানান।

জেলাগুলিতে জেলা কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা কমিশনারের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য, জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিতভাবে ক্ষেত্রভিত্তিক কর্মসূচি রূপায়ণের ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। বন্যা কবলিত এলাকার পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করে জলের গুণমান, বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে অবিলম্বে অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *