বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: পাঁচ রাজ্যের ভোটে ‘ঐতিহাসিক জয়’ পাবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বের মাঝে এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তা-ই নয়, বিহারের ভোট এবং গুজরাতের পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোটের উদাহরণ টেনে তাঁর দাবি, এ বারে জয়ের হ্যাট্ট্রিক করবে পদ্মশিবির। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানালেন তিনি। বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদই থেকে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন মোদী। সেখান থেকেই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা বিধানসভা নির্বাচনের মতো দ্বিতীয় দফাতেও মোটের উপর নির্বিঘ্নেই মিটছে ভোট। বিকেল পর্যন্ত ১৪২টি আসনের কোথাও কোনও বড় রকমের অশান্তির খবর মেলেনি। বিক্ষিপ্ত অশান্তি, গোলমাল কিছু ছিল। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিকও হয়েছে বলে জানা যায়। এবার শেষ দফায় রাজ্য তথা দেশের নজর ছিল ভবানীপুর কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর জন্য। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসনে এ বার লড়াই করতে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর জেতা বিধানসভা নন্দীগ্রামে লড়াই করতে যান মমতা। ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে শুভেন্দুর উদ্দেশে তৃণমূলের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ‘চোর-চোর’ কটাক্ষের পাল্টা ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। আজ কিছু ক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল ভবানীপুর। লাঠিচার্জ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। লাঠিচার্জের পর তেমন গন্ডগোল দেখা যায়নি। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়েও তা-ই। আইএসএফ প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে দেখে বিক্ষোভ দেখান শাসকদলের কর্মীরা। ভোটের সময় ভাঙড়ের ‘চেনা ছবি’ এ বার দেখা যায়নি। মোটের উপর বিকেল পর্যন্ত নির্বিঘ্নে ভোট হয়েছে ওই বিধানসভায়। হুগলির গোঘাটে কিছু ক্ষণের জন্য অশান্তি হয়েছিল। সেখানেও প্রশাসন, বাহিনীর চেষ্টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গিয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ করেন, অবাধ ভোটের নামে দিনভর অত্যাচার চলেছে। তাঁর আরও অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের এজেন্টদের বার করে দেওয়া হয়েছে। মারধর করা হয়েছে মহিলা এবং শিশুদের। নির্বাচন কমিশনের নাম না-করে মমতা অভিযোগ তোলেন, ‘‘ইজ় ইট ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন ?’’ তাঁর কথায়, ‘‘জীবনে এমন দেখিনি। তা সত্ত্বেও বলছি তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’’ ভোট দিতে এসে কলকাতার একাধিক থানার ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘নদিয়ার বিভিন্ন এলাকা, হুগলির আরামবাগ, খানাকুল, গোঘাট, পুরো ক্যানিংয়ে অত্যাচার চালানো হয়েছে। কাল রাত থেকে অত্যাচার চলছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কাল রাত থেকে আমাদের অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি এমন গণতন্ত্র কোথাও দেখিনি।’’ নিজের বুথের দিকে দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘‘দেখুন এখানে শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী। কোথাও রাজ্য পুলিশ নেই। বাহিনী দখল করে রেখেছে। ওদের উচিত সীমান্তে সুরক্ষা দেওয়া। দুঃখিত, আমি জীবনে এমন ভোট দেখিনি। আমার পাড়ায় ঢুকে মেয়েদের মেরেছে। অনেক জায়গায় এজেন্ট, প্রার্থীদের বার করে দেওয়া হচ্ছে।’’ তবে জেতার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। মমতা বলেন, ‘‘আমরা সকলে চাই নির্বিঘ্নে ভোট মিটুক। তবে বাইরে থেকে অনেক পুলিশ অফিসার নিয়ে এসেছে। তারা বাংলাকে বোঝে না। গতকাল রাতে সারা বাংলা জুড়ে অত্যাচার করেছে।’’ ভোট দিতে এসে সেই একই অভিযোগ করেন মমতা। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি কালীঘাট মন্দিরে যান। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সমীক্ষাতেই বিজেপি এগিয়ে। তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুসংখ্যা ছুঁয়ে ফেলেছে। কোনও কোনও সমীক্ষায় আবার তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে। তবে সর্বত্রই বিজেপি এবং তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই এই ধরনের বুথফেরত বা প্রাক নির্বাচনী জনমত সমীক্ষা মেলে না। তবে মিলে যাওয়ার কিছু উদাহরণও রয়েছে। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ২০২১ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছিল তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ৭৭টি আসন। ম্যাট্রিজ়ের বুথফেরত সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন পেতে চলেছে বিজেপি। তৃণমূল পাচ্ছে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। অন্যান্যেরা ছয় থেকে ১০টি আসন পেতে পারে বলে ম্যাট্রিজ়ের সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে। তবে বাম বা কংগ্রেস এ রাজ্যে খাতা খুলতে পারবে না বলে দাবি করা হয়েছে। চাণক্য স্ট্র্যাটেজি পশ্চিমবঙ্গের যে সমীক্ষা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি ১৫০ পেরিয়ে গিয়েছে। ১৫০ থেকে ১৬০টি আসন পেতে পারে তারা। তৃণমূল পাচ্ছে ১৩০ থকে ১৪০টি আসন। অন্যান্যদের এই সমীক্ষাতেও ৬ থেকে ১০টি আসন দেওয়া হয়েছে। তবে বাম এবং কংগ্রেসের আসন শূন্য। পিপল্স পাল্স-এর সমীক্ষায় তৃণমূল এগিয়ে। তারা পাচ্ছে ১৭৮ থেকে ১৮৯টি আসন। বিজেপি পেতে পারে ৯৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্যান্যদের মধ্যে কংগ্রেস ১ থেকে ৩টি আসন এবং বামেরা শূন্য থেকে একটি আসনে জয় পেতে পারে বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে। পি-মার্কের সমীক্ষা পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-কে এগিয়ে রেখেছে। তাদের মতে, এ রাজ্যে ১৫০ থেকে ১৭৫টি আসনে জিততে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল পেতে পারে ১১৮ থেকে ১৩৮টি আসন। অন্যান্যদের কোনও আসন দেওয়া হয়নি এই সমীক্ষায়। প্রজা পোল-এর সমীক্ষায় বিজেপি-কে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। তৃণমূল পেতে পারে ৮৫ থেকে ১১০টি আসন। অন্যান্য দলগুলি শূন্য থেকে পাঁচটি আসনে জিততে পারে বলে এই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে। পোল ডায়েরির সমীক্ষা বলছে, পশ্চিমবঙ্গে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন পেতে পারে বিজেপি। তৃণমূল পেতে পারে ৯৯ থেকে ১২৭টি আসন। অন্যান্যদের পাঁচ থেকে ন’টি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে এই সমীক্ষায়। জনমত পোল্স-এর সমীক্ষায় আবার তৃণমূলকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। ১৯৫ থেকে ২০৫টি আসন পেয়ে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ক্ষমতা ধরে রাখবে বলে দাবি করা হচ্ছে এই সমীক্ষায়। বিজেপি পেতে পারে ৮০ থেকে ৯০টি আসন কংগ্রেসকে এক থেকে তিনটি আসন এবং বামেদের শূন্য থেকে একটি আসন দেওয়া হয়েছে। অন্যান্যরা পেতে পারে তিন থেকে পাঁচটি আসন। জেভিসি-র সমীক্ষায় তৃণমূলকে ১৩১ থেকে ১৫২টি আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে। বিজেপি পেতে পারে ১৩৮ থেকে ১৫৯টি আসন। কংগ্রেসকে শূন্য থেকে দু’টি আসন দেওয়া হয়েছে এই সমীক্ষায়।
পাঁচ রাজ্যের ভোটে ‘ঐতিহাসিক জয়’ পাবে বিজেপি: মোদী
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: পাঁচ রাজ্যের ভোটে ‘ঐতিহাসিক জয়’ পাবে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ পর্বের মাঝে এমনটাই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তা-ই নয়, বিহারের ভোট এবং গুজরাতের পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোটের উদাহরণ টেনে তাঁর দাবি, এ বারে জয়ের হ্যাট্ট্রিক করবে পদ্মশিবির। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতাও জানালেন তিনি। বুধবার উত্তরপ্রদেশের হরদই থেকে গঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করেন মোদী।…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












