,

বন্ধুত্বের দিনে সন্তোষ চন্দের উপহারে আপ্লুত শান্তিকুমার ভট্টাচার্য

কমল কৃষ্ণ কুইলা। শিলচর : ২ আগস্ট বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসের দিনে শিলচরের সাংস্কৃতিক জগতে এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী থাকল সুরমল্লার সাংস্কৃতিক সংস্থা। বরাককণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং খ্যাতনামা তবলা বাদক সন্তোষ চন্দ তাঁর নিজ বাসভবনে শহরের বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শান্তিকুমার ভট্টাচার্যের হাতে স্নেহ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একটি…

কমল কৃষ্ণ কুইলা। শিলচর : ২ আগস্ট বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসের দিনে শিলচরের সাংস্কৃতিক জগতে এক বিরল ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী থাকল সুরমল্লার সাংস্কৃতিক সংস্থা। বরাককণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং খ্যাতনামা তবলা বাদক সন্তোষ চন্দ তাঁর নিজ বাসভবনে শহরের বর্ষীয়ান ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী শান্তিকুমার ভট্টাচার্যের হাতে স্নেহ, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একটি তবলা উপহার তুলে দেন।

উপহার গ্রহণ করে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শান্তিকুমার ভট্টাচার্য। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, সন্তোষ চন্দ শুধু একজন দক্ষ তবলা বাদকই নন, তিনি একজন প্রকৃত অভিভাবকের মতো শিল্পীদের পাশে দাঁড়ান। সন্তোষ নিজে একজন বিশিষ্ট তবলা বাদক হয়েও মঞ্চে অনুষ্ঠান পরিবেশন করতে আগ্রহী না হয়ে সবসময় নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়ে অন্যদেরকে সুযোগ করে দেন। এই ধরনের মহৎ মানসিকতা সম্পন্ন মানুষ আমি জীবনে আর কাউকেই দেখিনি। সন্তোষ যে আপাদমস্তক একজন সংস্কৃতি কর্মী তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।

শান্তিকুমার ভট্টাচার্য আরও বলেন, সন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে নীরবে বহু শিল্পীকে মানসিক,শারীরিক সহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করে আসছেন। শহরের অনেক প্রতিভাবান শিল্পীকে তিনি নিজের উদ্যোগে, নিজের পরিশ্রমে দেশ-বিদেশের বড় বড় মঞ্চে অনুষ্ঠান পরিবেশন করার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং এখনও দিচ্ছেন। কত শিল্পী যে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার হিসাব নেই। আমি নিজেও আজ যে জায়গায় পৌঁছেছি, তার পেছনে সন্তোষের অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁর সহযোগিতা না পেলে আমিও হয়তো এত মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পেতাম না।

বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবসে দেওয়া এই তবলা শুধু একটি বাদ্যযন্ত্র নয়। এটি দুই শিল্পীর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সংস্কৃতির প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক উজ্জ্বল প্রতীক। সন্তোষ চন্দের এই মানবিক উদ্যোগ শিলচরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করেন সুরমল্লার সাংস্কৃতিক সংস্থার সদস্য-সদস্যারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *