,

ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান বাঙালীর স্বাধীনতার চেতনার অমর অগ্নিশিখা

পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ডে ‘আমরা বাঙালী’র উদ্যোগে শহীদ স্মরণসভা বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা : অগ্নিযুগের অমর বিপ্লবী, বীর শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর ১৮তম আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার হাজরা মোড়ে। সভায় বক্তারা…

পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ডে ‘আমরা বাঙালী’র উদ্যোগে শহীদ স্মরণসভা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা : অগ্নিযুগের অমর বিপ্লবী, বীর শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর ১৮তম আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন প্রান্তে ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় কলকাতার হাজরা মোড়ে।

সভায় বক্তারা বলেন, ১৯০৮ সালের ১ আগস্ট ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। মাত্র ১৮ বছরের এক কিশোর কীভাবে মাতৃভূমির মুক্তির জন্য হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করেছিলেন, তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের এক অনন্য আদর্শ হয়ে ওঠে। ক্ষুদিরামের সেই অগ্নিমন্ত্র পরবর্তী সময়ে কিশোর সুভাষচন্দ্র বসুর মনেও গভীর রেখাপাত করেছিল এবং তাঁকে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে উদ্বুদ্ধ করেছিল—এই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের উপর বক্তারা বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।

সভা থেকে সম্প্রতি দেশনায়ক সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা বলেন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কেবল বাঙলার নন, তিনি সমগ্র ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় নায়ক। তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা ও আত্মত্যাগকে অবমাননা করার যে কোনও অপচেষ্টা বাঙালীর আত্মমর্যাদা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি অবমাননা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, হিন্দী সাম্রাজ্যবাদী শক্তি উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ও অ-রাজবংশীয় বাঙালীদের মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি করে বাঙালী জাতিসত্তাকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিভাজনের সুযোগ নিয়ে উত্তরবঙ্গের ঐতিহাসিক বরেন্দ্রভূমির উর্বর কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অবাঙালী পুঁজির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পথকে সুগম করার চেষ্টা চলছে। ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে রাজবংশী সমাজের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলা হয়, এই বিভেদমূলক ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দিয়ে নিজেদের বৃহত্তর ঐতিহাসিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। বক্তারা বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—ছয়টি ঐতিহাসিক জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা বাঙালী জনগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাজবংশী সমাজ। রাজবংশীরা কোনো বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠী নয়; তাঁরা বাঙালী সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এদিন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর প্রতি অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে এবং রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়।

কলকাতার হাজরা মোড়ে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত শহীদ স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন দলের কেন্দ্রীয় সচিব জ্যোতিবিকাশ সিনহা, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়ন্ত দাশ, বাঙালী যুব সমাজের সদস্য অধ্যাপক বিপ্লব রায়, বাঙালী মহিলা সমাজের নেত্রী গোপা শীল ও প্রণতি পাল, কলকাতা জেলা সচিব সুদীপ দাশগুপ্ত, সুশীল জানা, শুভজিৎ পাল প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভাটি পরিচালনা করেন বিশ্বজিৎ বণিক। একই সঙ্গে অসমের শিলচরে ‘আমরা বাঙালী’র অসম রাজ্য সচিব সাধন পুরকায়স্থ, আগরতলায় ত্রিপুরা রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্রপাল এবং ঝাড়খণ্ডে ‘আমরা বাঙালী’র কেন্দ্রীয় সহসচিব সুশীল কুমার মাহাত, অঙ্গদ মাহাতো ও রেখা মাহাতো-র নেতৃত্বে বীর শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর ১৮তম আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয়।

অসম রাজ্য সচিব সাধন পুরকায়স্থ বলেন, ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান শুধুমাত্র অতীতের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়—এটি অন্যায়, শোষণ, সাম্রাজ্যবাদ ও জাতিসত্তার উপর আক্রমণের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের চিরন্তন প্রেরণা। তাঁর আত্মত্যাগের অগ্নিশিখাকে সামনে রেখে বাঙালীর ভাষা, সংস্কৃতি, ভূমি, ইতিহাস ও আত্মমর্যাদা রক্ষার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

‘বন্দেমাতরম’-এর অগ্নিমন্ত্রে যে কিশোর হাসিমুখে ফাঁসির মঞ্চে উঠেছিলেন, তাঁর আত্মবলিদানের উত্তরাধিকার বাঙালী সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর প্রেরণা যুগিয়ে যাবে—সভা থেকে এই অঙ্গীকারই ব্যক্ত করা হয়।

‘আমরা বাঙালী’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সচিব তপোময় বিশ্বাস এ খবর জানান।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *