,

বন্যাপীড়িত মানুষের জন্য বড় স্বস্তি: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ও মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্যোগে ঋণ পরিশোধে ব্যাপক ছাড়

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের বন্যাপীড়িত মানুষের আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্যোগে রাজ্য স্তরের ব্যাংকিং কমিটির একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, নাবার্ড এবং রাজ্যে কর্মরত সব প্রধান ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন। রাজ্য বিজেপির মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে পাঠানো…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : অসমের বন্যাপীড়িত মানুষের আর্থিক বোঝা কমানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার উদ্যোগে রাজ্য স্তরের ব্যাংকিং কমিটির একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক, নাবার্ড এবং রাজ্যে কর্মরত সব প্রধান ব্যাংকের প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন। রাজ্য বিজেপির মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিবৃতিতে দলের মুখপাত্র ড.অঙ্কিতা দত্ত জানান, ব্যাংকগুলির দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী বন্যাপীড়িত চারটি অঞ্চলে মোট প্রায় ১১,৪০০ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বন্যাপীড়িত পরিবারগুলিকে তাৎক্ষণিক আর্থিক স্বস্তি দিতে কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ড.অঙ্কিতা দত্ত উল্লেখ করেন। বৈঠকে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে, ব্যাংকগুলি পুনরায় যাচাই করে নিশ্চিত করবে যে আবেদনকারী প্রকৃতপক্ষে বন্যাপীড়িত কিনা। এই বিশেষ সুবিধা কেবল বন্যাপীড়িতদের জন্যই প্রযোজ্য হবে। যেসব ঋণগ্রহীতার ঋণ-হিসাব ১৯ জুলাইয়ের আগে খেলাপি হয়নি, তারাই এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। আবাসন ঋণ, শিক্ষা ঋণ এবং যানবাহন ঋণ গ্রহণকারী বন্যাপীড়িতদের জন্য ৬ মাসের ঋণ পরিশোধে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে তাঁদের ঋণের কিস্তি দিতে হবে না। এই ঋণগুলির পরিশোধের সময়সীমা আরও ২ বছর বাড়ানোর সুবিধাও দেওয়া হবে। কৃষি ঋণ এবং স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর ঋণের ক্ষেত্রেও ৬ মাসের জন্য ঋণ পরিশোধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ২ বছর বাড়ানো হবে। মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগি পালন, শূকর পালন, দুগ্ধ শিল্প ইত্যাদি জীবিকাভিত্তিক উদ্যোগের ঋণের ক্ষেত্রেও পরিশোধের সময়সীমা ২ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র, লঘু ও মাঝারি শিল্প খাতের ঋণগ্রহীতাদের ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ৩ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ড.অঙ্কিতা দত্ত বলেন, এই সিদ্ধান্তগুলি বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ লক্ষ পরিবার, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক পুনরুদ্ধারে বিশেষ সাহায্য করবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও অসম রাজ্য সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টা আবারও প্রমাণ করল যে সংকটের সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের জীবিকা সুরক্ষিত করাই সরকারের অগ্রাধিকার। মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নিরন্তর প্রচেষ্টা এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের ইতিবাচক সহযোগিতার ফলেই বন্যাপীড়িতদের জন্য এই ঐতিহাসিক আর্থিক স্বস্তি সম্ভব হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *