,

কাজিরাঙার চারপাশে ১ কিলোমিটার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা: সিদ্ধান্তের পক্ষে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : রাজ্যের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের চারপাশে ১ কিলোমিটার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা ঘোষণার সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের সাধারণ সংরক্ষিত বলয় সব সংরক্ষিত…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : রাজ্যের কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের চারপাশে ১ কিলোমিটার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা ঘোষণার সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬ গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সরকার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা চূড়ান্তভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটারের সাধারণ সংরক্ষিত বলয় সব সংরক্ষিত এলাকার ক্ষেত্রে বহাল থাকবে। তিনি বলেন, “একবার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হলে, সেই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত দূরত্বই কার্যকর হবে।”

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, সংরক্ষিত এলাকার চারপাশে কমপক্ষে ১ কিলোমিটার পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা হতে পারে। “সর্বোচ্চ আদালত বলেছে পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা ১ কিমি পর্যন্ত হতে পারে। পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ১০ কিমির নিয়ম বহাল থাকবে। এটা বিদ্যমান বলয় কমানোর বিষয় নয়,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান এবং একশৃঙ্গ গন্ডারের নিরাপদ আবাস কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের চারপাশে ১০ কিমি পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা বহাল রাখলে বোকাখাট, কালিয়াবর সহ আশপাশের শহরগুলোর হাজার হাজার মানুষ সমস্যার মুখে পড়বেন বলে জানান তিনি। যারা এই বিষয়টি না বুঝে সমালোচনা করছেন, তাদের সর্বোচ্চ আদালতের রায় ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রথমে রাজ্যের বন দপ্তর প্রস্তাব তৈরি করবে। তারপর রাজ্য সরকার তা কেন্দ্রে পাঠাবে এবং কেন্দ্র তা জাতীয় বন্যপ্রাণী পর্ষদে পাঠাবে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি গুয়াহাটির উপকণ্ঠে অবস্থিত আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলাভূমি দীপর বিল এর কথা উল্লেখ করেন। “দীপর বিলের চারপাশে ১ কিমি পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর অর্থ হলো সর্বত্র ১০ কিমি সংরক্ষিত বলয় থাকতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই,” বলেন ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা।

২০০২ সালে জাতীয় বন্যপ্রাণী পর্ষদের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব থেকেই ১০ কিমির সাধারণ নিয়মের উৎপত্তি। ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক রাজ্য সরকারগুলোকে স্থান-নির্দিষ্ট পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকার প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ১০ কিমি পর্যন্ত সাধারণ নির্দেশিকা জারি করে।

পরে এই ১০ কিমির নির্দেশিকা সর্বোচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ২০২২ সালের জুনে সর্বোচ্চ আদালত প্রতিটি জাতীয় উদ্যান বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সীমানা থেকে কমপক্ষে ১ কিমি পরিবেশ সংবেদনশীল এলাকা বাধ্যতামূলক করে এবং এর মধ্যে খনন নিষিদ্ধ করে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আদালত সেই নির্দেশ সংশোধন করলেও ১ কিমির শর্ত বহাল রাখে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *