জনসংযোগ প্রতিবেদন। শিলচর : বরাক নদী ও তার উপনদীগুলির জলস্তর কাছাড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে শিলচরের ট্রাঙ্ক রোডস্থিত আরবান প্রাইমারি হেলথ সেন্টার (পিএইচসি)-এ ২৪ ঘণ্টার ফ্লাড কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
কাছাড়ের যুগ্ম স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালকের জারি করা নির্দেশ অনুসারে অবিলম্বে এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষ কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি চালু থাকবে। বন্যা সংক্রান্ত চিকিৎসা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুবিধার্থে ৯৩৯৪৬১৫৪০১ নম্বরের একটি বিশেষ হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।
সোনাই, বড়খলা, দিগরকাশীপুর, ধলাই, লক্ষীপুর, উদারবন্দ এবং হরিনগরের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী স্বাস্থ্যকর্মীদের (এমপিডব্লিউ) নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। সুপরিকল্পিত শিফটভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকাল, দুপুর এবং রাত্রিকালীন পৃথক শিফটে কর্মীরা দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে জরুরি ফোনকল এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।
জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিকদের মতে, এই নিয়ন্ত্রণ কক্ষটি জেলার বন্যা পরিস্থিতিজনিত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। জনসাধারণের প্রশ্নের উত্তর প্রদান, প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যদল মোতায়েন, বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং তৃনমুল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার দায়িত্বও এই কেন্দ্রের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এর ফলে জলবন্দি ও বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া আরও সহজ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বন্যাজনিত চিকিৎসা জরুরি পরিস্থিতি কিংবা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনও প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে এই বিশেষ হেল্পলাইন ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার, জেলা প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার এবং প্রয়োজন হলে বিলম্ব না করে চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সমগ্র বন্যা পরিস্থিতি জুড়ে কাছাড়বাসীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।












