,

প্রশ্নফাঁস নিয়ে কঠোর অবস্থান প্রধানমন্ত্রীর, ধুরন্ধর আইনজীবী দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : চিকিৎসা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মঙ্গলবার কঠোর অবস্থান নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সংসদীয় দলের মঙ্গল মিলন বৈঠকে তিনি বলেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। এই কাজের জন্য সরকার বিশেষজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করেছে যাতে দোষীরা কঠোর শাস্তি পায়। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : চিকিৎসা ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মঙ্গলবার কঠোর অবস্থান নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সংসদীয় দলের মঙ্গল মিলন বৈঠকে তিনি বলেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নিতে হবে। এই কাজের জন্য সরকার বিশেষজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগ করেছে যাতে দোষীরা কঠোর শাস্তি পায়। বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজু সাংবাদিকদের জানান প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার দ্রুত কাজ শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত তেরো জনকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা হয়েছে তবে তাদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সফলভাবে হয়েছে এবং ফলও দ্রুত প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন যারা যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন ভবিষ্যতে যাতে আর প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয় সেজন্য কেন্দ্র এবং সব রাজ্য সরকারকে দলমত নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটি কোনো দলের বিষয় নয় এটি দেশের স্বার্থের বিষয়।

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। একদিন আগেই শত শত আন্দোলনকারীকে সংসদ অভিমুখে যেতে বাধা দিতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠি চালায়। করোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন করছেন। তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন। গত মে মাসে দেশের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই সংগঠন তৈরি হয়। সোমবার সকালে সরকারের উদ্যোগে সংগঠনটির দুই নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের দাবির কথা জানিয়ে স্মারকলিপি দেন। ওই মন্ত্রী বৈঠককে সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন। সামাজিক কর্মী সোনম ওয়াংচুকও এই আন্দোলনের সমর্থনে একুশ দিন অনশন করেছিলেন। শনিবার তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অনশন ভাঙে। তবে হাসপাতাল থেকেই তিনি জানান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হয়েছে তা দেখে তিনি আবার অনশন শুরু করবেন। প্রতি বছর কুড়ি লাখের বেশি শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এই পরীক্ষায় বসে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর গত মে মাসে পরীক্ষা বাতিল করা হয় এবং গত মাসের শেষে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। একই সময়ে উচ্চমাধ্যমিকের প্রায় কুড়ি লাখ পরীক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে।

অনেকের ভুল নম্বর দেওয়া হয়েছে বা অন্যের নামে ফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেও প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভে সংসদের উভয় কক্ষের কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হয়। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সাংসদদের বলেন দেশের ভবিষ্যৎ এবং তরুণ প্রজন্মের কল্যাণের জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *