২৪ ঘণ্টা সতর্ক প্রশাসন, সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান
জনসংযোগ। শিলচর : টানা বৃষ্টি এবং ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের আগামী দুই থেকে তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের জেরে কাছাড় জেলায় বরাক নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় রবিবার কাছাড় জেলা প্রশাসন ও জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জেলাজুড়ে সর্বাত্মক সতর্কতা জারি করেছে। DDMA-র তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান আবহাওয়ার কারণে জেলার নিচু এলাকা, বন্যাপ্রবণ অঞ্চল এবং শহরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে একাধিক এলাকায় বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে আবেদন জানানো হয়েছে, ভারী বৃষ্টির সময় নিচু এলাকা, নদী, নালা, ড্রেন ও জলমগ্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলতে হবে। প্লাবিত রাস্তা বা জমা জলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে বা কোনও যানবাহন নিয়ে পারাপার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ জলের নীচে গর্ত বা খোলা নর্দমার মতো লুকিয়ে থাকা বিপদ থাকতে পারে। একই সঙ্গে বাড়িতে জল ঢুকলে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান সামগ্রী উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখতে বলা হয়েছে। বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য সরিয়ে নেওয়ার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকতে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রতিটি পরিবারকে জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগে থেকেই একটি কিট প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে। ওই কিটে শুকনো খাবার, নিরাপদ পানীয় জল, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, সমস্ত সরকারি দপ্তর, জরুরি পরিষেবা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ২৪ ঘণ্টা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং সমগ্র পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। প্রয়োজন হলে আরও নির্দেশিকা জারি করা হবে।
যে কোনও জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের জেলা জরুরি পরিচালন কেন্দ্র DEOC-র সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। যোগাযোগের জন্য ল্যান্ডলাইন নম্বর ০৩৮৪২-২৩৯২৪৯ ও ০৩৮৪২-২৩৪০০৫, মোবাইল নম্বর ৯৪০১৬-২৪১৪১ এবং ই-মেল ddma-cachar@assam.gov.in দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সকলের কাছে আবেদন জানিয়েছে, শান্ত ও সতর্ক থাকুন, কোনও ধরনের গুজব ছড়াবেন না এবং আবহাওয়া ও বন্যা সংক্রান্ত তথ্য শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকেই সংগ্রহ করুন। মোবাইল ফোন চার্জ রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।












