নিকাশির অভাবে ঘর-দোকানে জল, বছর পর বছর প্রতিশ্রুতি, কাজের কাজ কিছুই নেই
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: রবিবার সকালের সামান্য বৃষ্টিতেই কার্যত অচল হয়ে পড়ল শিলচর শহরের ব্যস্ততম বিলপার ও রাধামাধব রোড এলাকা। জল নিকাশির কোনও ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তা ডুবে গিয়ে তা ঢুকে পড়েছে আশেপাশের ঘর-বাড়ি ও দোকানপাটের ভিতর। ছবিতে দেখা যাচ্ছে হাঁটু সমান ঘোলা জলের মধ্যে দিয়ে মানুষ ছাতা মাথায়, বাইক ঠেলে কোনওরকমে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এটা আজকের ঘটনা নয়। প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই একই চিত্র। বহু বছর ধরে একই ভোগান্তি চলছে। একাধিকবার পথ অবরোধ, স্মারকলিপি, আন্দোলন করেও প্রশাসনের টনক নড়েনি। কোনও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
অথচ এই রাস্তাটি শহরের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। দিনে কয়েকশো গাড়ি, টোটো, বাইক এই পথ দিয়ে চলাচল করে। সাধারণ মানুষ বাজার-হাট করতে, ছাত্রছাত্রীরা স্কুল-কলেজে যেতে, ব্যবসায়ীরা ফাটক বাজার ও নিউ মার্কেটে পৌঁছাতে এই রাস্তাকেই ভরসা করেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা নদীর চেহারা নেওয়ায় নিত্যদিনের জীবনযাত্রা পুরোপুরি বিপর্যস্ত।
দোকানদারদের অভিযোগ, জল ঢুকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। ঘরের মধ্যে জল জমে থাকায় ছোট শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে। তবুও দেখার কেউ নেই।

এলাকাবাসীর ক্ষোভ আরও তীব্র। তাদের কথায়, “সরকারের মুখে শুধু লক্ষ-কোটি টাকা বরাদ্দের বিজ্ঞাপন। খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় শিলচর শহরের উন্নয়নের জয়গান। বিভাগীয় মন্ত্রীরা সভা করে জনসাধারণের জন্য উন্নয়নের ফিরিস্তি দেন, সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু বাস্তবে শহরের কী হাল, তা দেখতে মন্ত্রীরা একবারও আসেন না।”
বছরের পর বছর একই প্রতিশ্রুতি, একই আশ্বাস। কিন্তু বিলপার-রাধামাধব রোডের নিকাশি ব্যবস্থার কোনও উন্নতি হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এই এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও রাস্তা উঁচু করে সংস্কার করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে নামা হবে।
প্রশ্ন একটাই, শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই দুর্দশা কবে ঘুচবে? আর কত বছর সাধারণ মানুষকে এই ভোগান্তি সহ্য করতে হবে? সরকার ও প্রশাসনের কাছে এর উত্তর চাইছে শিলচরবাসী।












