শিলচরের আবর্ত ভবনে আলোচনা, বৃহৎ ধামাইল প্রদর্শনীর জন্য সরকারি সহযোগিতা চাইলেন শিল্পীরা
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক লোক সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্য ধামাইল নৃত্যকে সংরক্ষণ ও বৃহত্তর পরিসরে প্রচারের দাবিতে আজ শিলচরের আবর্ত ভবনে জনস্বাস্থ্য কারিগরি, বরাক উন্নয়ন ও পার্বত্য এলাকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বরাকের কয়েকজন নৃত্য শিল্পী। শিল্পীরা বলেন, ধামাইল বরাকের পরিচয় হলেও এখনও পর্যন্ত এই নৃত্যের প্রচার ও প্রসারে সরকারি স্তরে কোনো বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সাক্ষাৎকালে শিল্পীরা আগামী দিনে বরাক উপত্যকা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের নিয়ে এক অভিনব বৃহদায়তন ধামাইল নৃত্য প্রদর্শনীর আয়োজনের প্রস্তাব দেন। তাঁরা বলেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্য সরকার যদি উদ্যোগ নেয়, তাহলে বরাকের এই লোকসংস্কৃতিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরা সম্ভব।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল শিল্পীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ধামাইল নৃত্যের প্রচার, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার জন্য সরকারি সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
আজকের এই সভায় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শিলচরের প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, বাণীছন্দম সংগীত অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ দেবতোষ নাথ, নৃত্যায়ন সংগীত অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ চন্দন মজুমদার, নৃত্যালয়মের শিপ্রা পুরকায়স্থ, গৌড়ীয় নৃত্যকলা ভারতীর ডিরেক্টর সত্যজিৎ বসু জয়, কলাক্ষেত্র মিউজিক কলেজের অধ্যক্ষা অপু সূত্রধর ও নিনাদ গুরুকুলের অধ্যক্ষা মধুছন্দা দত্ত চৌধুরী সহ বরাক উন্নয়ন বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, বিশ্ব দরবারে ধামাইল নৃত্যের প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে শিলচর ইয়ুথ কয়্যার এবং সম্মিলিত লোক মঞ্চ। এই দুই সংগঠন বহুদিন থেকে সরকারের কাছে এ বিষয়ে দাবি রেখে আসছে। শিলচর ইয়ুথ কয়্যার দেশ-বিদেশে ধামাইল নৃত্য পরিবেশন করে সুনাম অর্জন করেছে এবং গত ২০ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ধামাইল গান ও নৃত্যের কর্মশালা পরিচালনা করে আসছে। অন্যদিকে সম্মিলিত লোক মঞ্চ বহু বছর ধরে নিয়মিত ধামাইল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে দাবি রেখে আসছে। সরকার এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। সরকার এই ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে ধামাইল নৃত্যের শিল্পী এবং প্রকৃত ধামাইল নৃত্যের করিওগ্রাফার নির্বাচন করে ধামাইলকে বিশ্বদরবারে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আবেদন রেখেছেন সংস্কৃতি মহল।












