নাগরিক পরিষেবা, আবর্জনা মুক্ত শহর ও সংস্কৃতি চর্চায় সবার সহযোগিতা চাইলেন নতুন কমিশনার, বরাককণ্ঠের সম্পাদক সন্তোষ চন্দের সঙ্গে বৈঠক
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: দুদিন আগেই শিলচর পুরনিগমের কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আইএস অঙ্কুর দাস। শিলঙের স্থায়ী বাসিন্দা অঙ্কুর দাস প্রশাসনিক কাজে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। এর আগে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডিব্রুগড় জেলার দুলিয়াজান মহকুমার কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। রাজ্য সরকার তাকে আবাসন ও নগর বিষয়ক বিভাগের উপ-সচিব পদে বদলি করে একইসঙ্গে শিলচর পুরনিগমের কমিশনারের অতিরিক্ত দায়িত্ব অর্পণ করেছে। ফলে শহরের নাগরিক পরিষেবা প্রদান, শহরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, জল-নিকাশি ও পুরনিগমের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এখন তার ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিলচরবাসীর প্রত্যাশা বেড়েছে। শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা জল জমা, বেহাল রাস্তাঘাট, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও নোংরা আবর্জনার সমস্যা সমাধানে নতুন কমিশনারের কাছে বিশেষ আশা করছেন নাগরিকরা।
আজ ১৫ জুলাই নতুন কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন বরাককণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এবং বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী, তবলাবাদক সন্তোষ চন্দ। আলোচনার শুরুতে বরাককণ্ঠ পত্রিকার পক্ষ থেকে সন্তোষ চন্দ নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুরনিগমের কমিশনার অঙ্কুর দাস মহাশয়কে উত্তরীয় ও উপহার দিয়ে সম্মান জানান।
বৈঠকে শিলচর শহরের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল শহরের নাগরিক সমস্যার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো। সন্তোষ চন্দ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিলচর গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহ-এর বেহাল দশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিলচর শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার মতো উপযুক্ত প্রেক্ষাগৃহের তীব্র অভাব রয়েছে। বড় অডিটোরিয়ামগুলির ভাড়া অত্যন্ত বেশি হওয়ায় ছোট ও মাঝারি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির পক্ষে সেখানে অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়। বর্তমানে শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের একমাত্র ভরসা হল শিলচর গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহ। কিন্তু এই প্রেক্ষাগৃহে পর্যাপ্ত এসি, ফ্যান নেই এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোও ভেঙে পড়ার অবস্থায়। এই প্রেক্ষাগৃহ ঠিকঠাক না হলে শহরের সাংস্কৃতিক চর্চা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। পাশাপাশি তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ সহ শহরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবি-দাওয়ার কথাও কমিশনারের সামনে তুলে ধরেন।
কমিশনার অঙ্কুর দাস সমস্ত কথা অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে শোনেন। তিনি বলেন, শিলচরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহের বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। তিনি জানান, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি স্বয়ং গান্ধীভবন প্রেক্ষাগৃহ পরিদর্শনে যাবেন এবং সুস্থ সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রেক্ষাগৃহের পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
আলোচনাকালে কমিশনার অঙ্কুর দাস আরও বলেন, তার প্রধান লক্ষ্য শিলচর শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন, আবর্জনা মুক্ত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা। কিন্তু এই কাজ শুধু পুরনিগমের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য শহরের বুদ্ধিজীবী মহল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং প্রতিটি সাধারণ নাগরিককে পুরনিগমের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি রাস্তাঘাট পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং শহরকে সুন্দর করে তোলার কাজে পুরনিগমের সঙ্গে শহরবাসীকে এগিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে আবেদন জানান। কমিশনার বলেন, শিলচর শহরের ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত এবং সকলের সহযোগিতা নিয়ে শহরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিশনারের এই ইতিবাচক মনোভাব ও আশ্বাসে শিলচরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। সকলেই আশা করছেন আইএএস অঙ্কুর দাসের নেতৃত্বে শিলচর পুরনিগম নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।












