,

ভাঙা রাস্তার ‘উপহার’-এর জন্য সরকারকে কৃতজ্ঞতা, শুক্রবারের মধ্যে কাজ না হলে রাস্তা ধর্মঘট

মেহেরপুরে ইউনাইটেড সিটিজেন্সের ব্যঙ্গাত্মক কৃতজ্ঞতা অভিযান, শিলচরের ১৬টি সংগঠনের যৌথ হুঁশিয়ারি বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: সরকার যখন একের পর এক “অভিযান”-এর নামে প্রচার চালাচ্ছে, তখন শিলচরের মানুষ নামলেন একেবারে উল্টো “অভিযান” নিয়ে। রবিবার মেহেরপুরে শহরের ১৬টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড সিটিজেন্স পালন করল ব্যঙ্গাত্মক “কৃতজ্ঞতা অভিযান”। উন্নয়নের নামে ভাঙা রাস্তা, জলজট, যানজট আর প্রতিদিনের দুর্ভোগ “উপহার” দেওয়ার…

মেহেরপুরে ইউনাইটেড সিটিজেন্সের ব্যঙ্গাত্মক কৃতজ্ঞতা অভিযান, শিলচরের ১৬টি সংগঠনের যৌথ হুঁশিয়ারি

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: সরকার যখন একের পর এক “অভিযান”-এর নামে প্রচার চালাচ্ছে, তখন শিলচরের মানুষ নামলেন একেবারে উল্টো “অভিযান” নিয়ে। রবিবার মেহেরপুরে শহরের ১৬টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড সিটিজেন্স পালন করল ব্যঙ্গাত্মক “কৃতজ্ঞতা অভিযান”।

উন্নয়নের নামে ভাঙা রাস্তা, জলজট, যানজট আর প্রতিদিনের দুর্ভোগ “উপহার” দেওয়ার জন্য সরকারকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানানোই ছিল এই অভিযানের উদ্দেশ্য।

অভিযানের প্রেক্ষাপট
গত কয়েক মাস ধরে শিলচরের রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে ভেতরের গলি পর্যন্ত সব জায়গায় বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের নিচু এলাকা হাঁটুজলে ডুবে যায়। নোংরা জল, কাদা আর ভাঙা পাথর পেরিয়েই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, অফিসযাত্রী, রোগী সবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে যত্রতত্র বেআইনি গাড়ি পার্কিং। সরু রাস্তা আরও সরু হয়ে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় লেগে থাকছে কিলোমিটার জুড়ে যানজট। অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার ব্রিগেড পর্যন্ত আটকে যাচ্ছে। তার ওপর কোনো সমন্বয় ছাড়াই বিভিন্ন দপ্তর রাস্তা খুঁড়ছে। খোঁড়ার পর আর মেরামত হচ্ছে না।

এই অবস্থার বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে শহরের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠন। তাদের যৌথ মঞ্চের নাম ইউনাইটেড সিটিজেন্স।

ইউনাইটেড সিটিজেন্স কী বলছে
মেহেরপুরের প্রতিবাদ সভায় ইউনাইটেড সিটিজেন্সের নেতারা বলেন, “আমরা সরকারের কাছে উন্নয়ন চেয়েছিলাম। বদলে পেয়েছি গর্ত, জল আর জ্যাম। তাই কৃতজ্ঞতা জানাতেই আজ এই অভিযান।”

তাদের অভিযোগ, শিলচর চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতাল, একাধিক সেবাকেন্দ্র, অসম বিশ্ববিদ্যালয়, এনআইটি, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে যাওয়ার প্রধান রাস্তাগুলোর অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, ডাক্তার, ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন।

“এটা শুধু অসুবিধা নয়, এটা জীবনের ঝুঁকি। একটা অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারলে দায় কে নেবে?” — প্রশ্ন তোলেন নেতারা।

প্রশাসনকে দেওয়া সময়সীমা ও হুঁশিয়ারি
সভা থেকে ইউনাইটেড সিটিজেন্স প্রশাসনকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৩টি দাবি মানতে হবে:

১. রাস্তা মেরামত: শহরের প্রধান সড়কগুলোর গর্ত ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করতে হবে
২. জল নিকাশি: বৃষ্টির জল দ্রুত বের করার স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে
৩. যানজট নিয়ন্ত্রণ: বেআইনি পার্কিং বন্ধ করে ট্রাফিক ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে

নেতাদের স্পষ্ট কথা, “শুক্রবারের মধ্যে কাজ শুরু না হলে শনিবার সকাল ৬টা থেকে আমরা রাস্তায় নেমে রাস্তা ধর্মঘট করব। ওই ভাঙা রাস্তায় স্বাভাবিক যান চলাচল বন্ধ থাকবে।”

পরবর্তী কর্মসূচি
ইউনাইটেড সিটিজেন্স জানিয়েছে, এটি তাদের শেষ কর্মসূচি নয়। দাবি না মানলে পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর আন্দোলনে যাবে তারা।
পরিকল্পনায় আছে:
– শহরজুড়ে লাগাতার বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল
– জেলা শাসকের কার্যালয় ঘেরাও
– প্রয়োজনে শিলচর বন্ধ

ব্যঙ্গের আড়ালে আর্তনাদ
“কৃতজ্ঞতা” শব্দটাকে প্রতিবাদের ভাষা বানিয়েছে ইউনাইটেড সিটিজেন্স। তাদের বক্তব্য, “এত গর্ত দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এত জলজট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এত যানজট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এত দুর্ভোগ উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।”

কিন্তু এই ব্যঙ্গের আড়ালে লুকিয়ে আছে শহরবাসীর ক্ষোভ আর অসহায়তা। ইউনাইটেড সিটিজেন্সের বার্তা খুব পরিষ্কার  মানুষ আর চুপ করে বসে থাকবে না। শুক্রবার পর্যন্ত সময়। তারপর রাস্তাই হবে প্রতিবাদের মঞ্চ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *