নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাভাষী মানুষের পরিচিতি আজ এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন। শতাব্দীর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাঙালির ওপর এমন দুর্দিন আগে আসেনি বললেই চলে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিবেকানন্দ কিংবা সুভাষচন্দ্রের উত্তরসূরিদের ভারতেরই বিভিন্ন প্রান্তে আজ ‘বিদেশি’ বা ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি সমসাময়িক রাজনীতির অলিন্দে বাংলাভাষীদের ‘ভারতের ইহুদি’ তে পরিণত করার যে অপচেষ্টা চলছে, তা ভারতের অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির পরিপন্থী। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই বাঙালির অধিকার ও ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে সোচ্চার হয়েছে ‘সর্বভারতীয় বাংলাভাষা মঞ্চ’। সংগঠনটির নেতৃত্ব মনে করেন, কর্পোরেট স্বার্থ চরিতার্থ করতে গুজরাট থেকে অসম, ওড়িশা থেকে উত্তরপ্রদেশ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী উদ্বাস্তু ও ভূমিপুত্রদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। ৭০-৮০ বছরের পুরনো বসতি থেকে দরিদ্র ও দলিত বাসিন্দাদের এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়া কেবল অমানবিক নয়, বরং ভারতীয় সংবিধান এবং এদেশের অরণ্য সভ্যতার মহান ঐতিহ্যের প্রতি এক চরম বিশ্বাসঘাতকতা। এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলো নিয়ে জনমত গড়ে তুলতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সর্বভারতীয় আলোচনাচক্রের আয়োজন করেছিল ‘সর্বভারতীয় বাংলাভাষা মঞ্চ’। ১২টি রাজ্যের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী ১৯ মে ‘শিলচর ভাষা আন্দোলন ও অধিকার দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ড. দিলীপ কুমার সিনহা ও সাধারণ সম্পাদক নীতীশ বিশ্বাস এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ১৯ মে ১৯৬১ সালের শিলচরের সেই আত্মবলিদানকে স্মরণ করে সারা ভারতে ‘বাংলা ভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করার আবেদন জানানো হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মঞ্চের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় কবি, লেখক, সমাজসেবী ও সাংবাদিকদের এই কর্মসূচিতে শামিল করা হয়। মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় আগামী ১৯ মে, মঙ্গলবার বেলা একটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারভাঙা ভবনে হবে। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন সিনেট হলে ‘১৯-এর কবি সম্মেলন’ ও ‘ভারতে বাংলা ভাষা দিবস’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনাচক্র অনুষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আশুতোষ ঘোষ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ও বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। এছাড়াও দেশবরেণ্য গবেষক ও অধ্যাপকরা এই সভায় অংশ নেবেন। ঐদিন আলোচনার পাশাপাশি এক প্রতিবাদী পদযাত্রারও পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিকেল ৪টেয় শুরু হতে চলা এই পদযাত্রার মূল দাবি হবে- বাংলাভাষীদের ওপর প্রশাসনিক নিপীড়ন বন্ধ করা এবং উদ্বাস্তু উচ্ছেদ রোধ করা রবীন্দ্র-নজরুল-সুভাষের উত্তরাধিকারী হিসেবে বাংলাভাষীদের আত্মরক্ষার এই গণতান্ত্রিক লড়াইকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবং বাঙালির মহা-ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে মঞ্চ। মঞ্চের পক্ষে শিলচর আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ চন্দ এবং উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সাধন পুরকায়স্থ এক প্রেসবার্তায় এ খবর জানিয়েছেন।
১৯ মে ‘শিলচর ভাষা আন্দোলন ও অধিকার দিবস’ পালনের প্রস্তুতি সর্বভারতীয় বাংলাভাষা মঞ্চের
নিজস্ব প্রতিবেদন: বর্তমান ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বাংলাভাষী মানুষের পরিচিতি আজ এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন। শতাব্দীর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বাঙালির ওপর এমন দুর্দিন আগে আসেনি বললেই চলে। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, বিবেকানন্দ কিংবা সুভাষচন্দ্রের উত্তরসূরিদের ভারতেরই বিভিন্ন প্রান্তে আজ ‘বিদেশি’ বা ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করার এক সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনকি সমসাময়িক…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












