কর্মশালা ও মূল অনুষ্ঠানে গাইবেন জি-বাংলা সারেগামাপা খ্যাত ঋষি চক্রবর্তী
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন : বর্তমান সময়ে শহরে লোকসঙ্গীত নিয়ে কাজ করে এবং বিভিন্ন সময়ে কর্মশালার আয়োজন করে সুনাম অর্জন করেছে Folkইরা গানের দল। লোকসংস্কৃতির শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ১০-১১ জুলাই শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী লোকসংস্কৃতি কর্মশালার আয়োজন করেছে তারা। উৎসবের নাম দেওয়া হয়েছে “সহজ আলাপ”। প্রতিদিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে দুপুর ১টায়।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হল লোকগানকে শুধুমাত্র মঞ্চে সীমাবদ্ধ না রেখে তাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে লোকসংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা।
উৎসবের প্রথম দুই দিন অর্থাৎ ১০ই জুলাই শুক্রবার ও ১১ই জুলাই শনিবার শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে নিবিড় লোকগানের কর্মশালা। এই কর্মশালায় প্রশিক্ষণ দেবেন পশ্চিমবঙ্গের জি-বাংলা সারেগামাপা খ্যাত এবং বর্তমানে দেশজুড়ে পরিচিত লোকশিল্পী ঋষি চক্রবর্তী। কর্মশালায় বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, কীর্তন ও বরাকের নিজস্ব লোকগানের বিভিন্ন ঘরানা নিয়ে বিশদ আলোচনা ও হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বরাক উপত্যকার আগ্রহী গায়ক-গায়িকা, ছাত্র-ছাত্রী ও সঙ্গীতপ্রেমীরা এই কর্মশালায় অংশ নিয়ে লোকগানের গায়কী, সুর ও পরিবেশনার খুঁটিনাটি শেখার সুযোগ পাবেন। কর্মশালার শেষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পীরা ১২ই জুলাইয়ের মূল মঞ্চে সমবেত কণ্ঠে গান পরিবেশন করবেন।
উৎসবের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১২ই জুলাই রবিবার বিকেল ৫টায় বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হবে মূল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা “আনন্দ-লোক ২০২৬”। এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ ঋষি চক্রবর্তীর লোকায়ত গানের একক পরিবেশনা। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই পরিবেশনায় তিনি বাংলা ও বরাকের লোকগানের বিভিন্ন ধারাকে তুলে ধরবেন। তাঁর গানের পাশাপাশি মঞ্চে থাকবে Folkইরা-র নিজস্ব পরিবেশনা। নাচে-গানে ভরা একটি ব্যতিক্রমী উদ্বোধনের মাধ্যমে শুরু হবে ওই দিনের অনুষ্ঠান।
Folkইরা-র কর্ণধার দেবরাজ ভট্টাচার্য ও সায়ন রায় কুটন যৌথভাবে বলেন, “বরাক উপত্যকায় লোকগানের চর্চা বহু পুরনো। কিন্তু আধুনিকতার ভিড়ে ও বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাবে তা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এই কর্মশালা ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষ, বিশেষ করে তরুণরা যেন নিজেদের শিকড়কে চিনতে পারে এবং লোকগানকে ভালোবাসতে শেখে। শুধু বিনোদন নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন। জনবলের অভাবে সকলের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে আপনাদের সকলের উপস্থিতিই এই অনুষ্ঠানকে সার্থক ও সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলবে।”
উল্লেখ্য, Folkইরা গত কয়েক বছর ধরে বরাকে লোকগানকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান, স্কুল-কলেজে কর্মশালা ও ইউটিউবের মাধ্যমে তারা লোকগানকে নতুন রূপে মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। এবারের “আনন্দ-লোক ২০২৬” সেই ধারাবাহিকতারই একটি বড় পদক্ষেপ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বরাক উপত্যকার সকল সঙ্গীতপ্রেমী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষকে এই তিন দিনের উৎসবে উপস্থিত থাকার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রবেশ অবাধ।












