২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শিলচর ইলোরা হেরিটেজ হলে নিখিল পালের ডাকে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয় ছিল একই দিনে অর্থাৎ উনিশ মে-তে মিছিল বের করা। সভায় অনেকেই ব্যক্তিগত মতামত দেন। এদিকে অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, আয়োজক এই আলোচনায় শুধু নিজের পছন্দের লোকের মতামত গ্রহণ করলেন। অন্যদের কে কথা বলার সুযোগ করে দেন নি। তার মধ্যে ১৯৬১ সালের বাংলা ভাষা আন্দোলনের ভাষা সংগ্রামীর ছেলেও উপস্থিত ছিলেন সভায় তার মতামত জানার প্রয়োজন মনে করেন নি আয়োজকরা। ২৩ এপ্রিল বিকেল পাঁচটায় শুরু হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে একটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষেই ছিল এই সভা। দীর্ঘক্ষণ মত বিনিময়ে উনিশেই মহা মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হল । গড়া হল কোর কমিটিও। কিন্তু একাধিক মিছিলের গ্যাঁড়ো থেকে শেষ পর্যন্ত বেরোনো সম্ভব হল না। অর্থাৎ উনিশে প্রস্তাবিত মহা মিছিল হচ্ছেই। পাশাপাশি সতেরোতে সুদীর্ঘ আঠাশ বছরের ঐতিহ্যবাহী মহা পথচলাও অব্যাহত থাকছে। আলোচনার নিটফল এটাই। উল্লেখ্য দীর্ঘ ৬৫ বছর পর ও ১৯শে মে উপলক্ষে শিলচরে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে আলাদা আলাদা দিনে মিছিল বের হয়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১৯শে মে’র আগের দিনগুলিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। আর মহান ১৯ এর পূণ্য দিনে এ বিষয়ে নেমে আসে বিরাট শূন্যতা। আর সেই শূন্যতা পূরণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি যাতে সার্বিকভাবে সফল হয়, সেই প্রচেষ্টায় এদিন ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সভা হয়। শেষে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উনিশের সকাল সাতটায় ভাষা শহিদ স্টেশন শিলচর থেকে শুরু হবে ‘উলিশের মহা মিছিল’। ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক ওই মহা মিছিল শিলচর শ্মশানঘাটে এসে শহিদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে শেষ হবে। পাশাপাশি ওই মহা মিছিলের ব্যবস্থাপনার জন্য সুব্রত ভট্টাচার্যকে অহ্বায়ক মনোনীত করে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই কমিটিতে অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী, চয়ন ভট্টাচার্য সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এদিনের সভায় পৌরোহিত্য করেন বর্ষিয়ান সাংস্কৃতিক কর্মী আশিস ভৌমিক। সঙ্গে ছিলেন দিলীপ সিনহা, ডঃ বিশ্বতোষ চৌধুরী, সঞ্জীব রায়, অন্যতম আহ্বায়ক নিখিল পাল। আলোচনার শুরুতে অন্যতম আহ্বায়ক নিখিল পাল উনিশ নিয়ে সাম্প্রতিক কালে উন্মাদনার মাত্রা কমে যাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন। বলেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে বরাকের আওয়াজ এবং জয়দীপ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ছাত্রসমাজ নামে পৃথক পৃথক ১৯ এর মিছিল একটা ছন্দহীনতা সৃষ্টি করেছে। সেই থেকে পরিত্রাণ পেতে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯ এ মহা মিছিল আয়োজনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সভাপতি আশিস ভৌমিক আক্ষেপ করে বলেন, যে তাগিদ নিয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের পক্ষ থেকে মহা মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। একটা স্পর্শকাতর বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, জাগ্রত করার চেষ্টা থেকে উল্টো আমরা সরে এসেছি। কেননা আমাদের বিশ্বাস, মাতৃভাষাকে জাগিয়ে রাখতে হলে তার চেতনাকে জাগ্রত করতে হবে। আর সেই চেতনা জাগ্রত করার মহেন্দ্রক্ষণ হচ্ছে মহান উনিশ। আর ওই দিনটিতে বহি রাজ্য থেকে অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা শিলচরে উপস্থিত থাকেন। ফলে মিছিল করার শুভক্ষণ হচ্ছে উনিশের দিন। বরিষ্ঠ সাংস্কৃতিক সংগঠক সুব্রত ভট্টাচার্য শুরুতেই এই বিষয়ে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ শিলচরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। বলেন, একটা সুষ্ঠু ভাবনা নিয়ে এই এগিয়ে চলায় মঞ্চ ও এগিয়ে আসবে আশা করা যায়। পাশাপাশি এক্ষেত্রে ব্যানার কি হবে, পেছনে কর্তব্যরতরা কারা, সবিশেষ জানা থাকা দরকার। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন, অতীতে উনিশে পালনে গাম্ভীর্য ছিল। এখন উন্মাদনা এসেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে চাই দুটোই। মহান উনিশের দিনে পাড়ায় পাড়ায় নয়, পৃথিবীর সব ভাষাভাষীর সংমিশ্রণে শহরে ঐক্যবদ্ধ ভাবে উদযাপন হোক। তবে সেই মহেন্দ্রক্ষণের কয়েকদিন আগে থেকেই এ সংক্রান্ত আওয়াজ উঠুক। আর উনিশে হোক মহা মিছিল। আলোচনা সভায় বরাক-বঙ্গের শিলচর আঞ্চলিক সমিতির পক্ষ থেকে দীপক সেনগুপ্ত প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন মহা মিছিল ১৯ এর পরিবর্তে ১৭ তে হলেই ভালো। বিশিষ্ট আইনজীবী রজত ঘোষ শহিদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে মিছিল সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করার আবেদন রাখেন । জয় বরদিয়া ওই মহা মিছিল সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চ শিলচরের ব্যানারে হলেই ভালো বলে মত প্রকাশ করেন। সাংবাদিক চয়ন ভট্টাচার্য বলেন, যেহেতু প্রেক্ষাপট উনিশ, তাই আগে পায়ে পায়ে হেঁটে এনার্জি লস করা অর্থহীন। কেননা নির্ধারিত দিনে প্রতিটি অঙ্গন থাকে ফাঁকা। এমন পরিস্থিতিতে এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে উনিশ কিভাবে উদযাপন করতে হয় দেখিয়ে দেওয়া যাবে। যদিও সভায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক অজয় রায়ের উল্টো সুর প্রতিধ্বনিত করে। তিনি বলেন, গেল বছর সম্মিলিত বৈঠকের মাধ্যমে ১৭ মে মহা পথচলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবারেও মঞ্চের আহ্বানে ওই দিনে মহা পথ চলায় সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতি কামনা করেন তিনি। এদিনের আলোচনায় পক্ষে-বিপক্ষে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরার পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব তুলে ধরেন জয়দীপ চক্রবর্তী, সায়ন বিশ্বাস, অমিত শিকিদার, নন্দিনী চক্রবর্তী, মৌটুসী বিশ্বাস, কৃষানু ভট্টাচার্য, দিলু দাস, ভাস্কর দাস, চিত্রভানু ভৌমিক সহ অনেকেই। আলোচনার পর বোঝা গেলো শহরে ১৯-শের মিছিল হচ্ছে দু’টো। ভবিষ্যতেও আরো বাড়তে পারে।
ঐক্যবদ্ধ করতে পারেন নি আয়োজকরা, সতেরো-উনিশ দুই দিনই মিছিল হচ্ছে শহরে
২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার শিলচর ইলোরা হেরিটেজ হলে নিখিল পালের ডাকে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয় ছিল একই দিনে অর্থাৎ উনিশ মে-তে মিছিল বের করা। সভায় অনেকেই ব্যক্তিগত মতামত দেন। এদিকে অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, আয়োজক এই আলোচনায় শুধু নিজের পছন্দের লোকের মতামত গ্রহণ করলেন। অন্যদের কে কথা বলার সুযোগ করে দেন নি। তার মধ্যে ১৯৬১…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












