,

কাছাড়ে পালস পোলিও অভিযানে প্রথম দিনেই ১.৯ লক্ষ শিশুকে টিকাদান, লক্ষ্যমাত্রার ৭০ শতাংশ পূরণ

শিলচর ও কালাইনে বিধায়কদের হাতে জাতীয় টিকাকরণ দিবসের সূচনা, ঘরে ঘরে চলবে স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযান জনসংযোগ প্রতিবেদন: রবিবার জাতীয় টিকাকরণ দিবস উপলক্ষে কাছাড় জেলায় শুরু হল পালস পোলিও অভিযান। প্রথম দিনেই জেলার ০ থেকে ৫ বছর বয়সী ১,৯০,০০০-এরও বেশি শিশুকে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রা ২,৭৮,০৭৩ জনের প্রায় ৭০ শতাংশ। জেলা প্রশাসন…

শিলচর ও কালাইনে বিধায়কদের হাতে জাতীয় টিকাকরণ দিবসের সূচনা, ঘরে ঘরে চলবে স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযান

জনসংযোগ প্রতিবেদন: রবিবার জাতীয় টিকাকরণ দিবস উপলক্ষে কাছাড় জেলায় শুরু হল পালস পোলিও অভিযান। প্রথম দিনেই জেলার ০ থেকে ৫ বছর বয়সী ১,৯০,০০০-এরও বেশি শিশুকে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রা ২,৭৮,০৭৩ জনের প্রায় ৭০ শতাংশ।

জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিলচর আরবান প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং কালাইন কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের সূচনা হয়।

শিলচরে উদ্বোধন: আরবান PHC-তে বিধায়ক রাজদীপ রায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত (স্বাস্থ্য) মনোজ্যোতি কুটুম, যুগ্ম সঞ্চালক ডা. সুমনা নাইডিং, WHO-এর সার্ভেইলেন্স মেডিক্যাল অফিসার ডা. অর্কদেব কর, জেলা টিকাকরণ আধিকারিক ডা. আব্দুল সালাম শেখ, SDM&HO ডা. অনিন্দিতা চন্দ, মেডিক্যাল অফিসার ডা. কমলিকা দেসহ LHV, ANM এবং আশা কর্মীরা।

বিধায়ক রাজদীপ রায় বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পোলিওমাইলাইটিসের মতো রোগ থেকে রক্ষা করতে টিকাকরণই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। যোগ্য প্রতিটি শিশুকে টিকা দিন।” ডা. সুমনা নাইডিং নিয়মিত টিকাকরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

কালাইনে সূচনা: কালাইন CHC-তে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ একটি শিশুকে ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন খাইয়ে অভিযানের শুভ সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত মুখ্য চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. এম. আই. বড়ভূঁইয়া, ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট ডা. এম. এস. ভৌমিক, ডা. পি. রাংমাই, ডা. চিরশ্রী দেব, ডা. বিশ্বজিৎ নাথ ও BPMU-এর সদস্যরা। ডা. বড়ভূঁইয়া বলেন, “মাঠপর্যায়ের সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই কর্মসূচির সফলতার চাবিকাঠি।”

অভিযানের ব্যাপ্তি: জেলার প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছাতে ১,৩১২টি পালস পোলিও বুথ স্থাপন করা হয়েছে। কাজ করছেন ৫,২২৮ জন সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মী, ২৬৭ জন সুপারভাইজার, মেডিক্যাল অফিসার, ২টি মোবাইল টিম। রয়েছে ১,১৮৭টি সাধারণ বুথ, ৫৯টি দুর্গম বুথ, ২৮টি প্রাতিষ্ঠানিক বুথ এবং ৩৮টি ট্রানজিট বুথ। দুর্গম এলাকায় বিশেষ দল পাঠিয়ে টিকাকরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বুথভিত্তিক টিকাদান চলে। এরপর সন্ধ্যা থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করছেন। আগামী দুই দিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি চলবে, যাতে পাঁচ বছরের নিচের কোনো শিশুই বাদ না পড়ে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশাবাদী, জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং হাজার হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর নিষ্ঠায় অভিযান শেষ হওয়ার আগেই শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *