,

১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মরণে রাজ্যজুড়ে কালো দিবস পালন করল অসম প্রদেশ বিজেপি

স্বৈরাচারী শাসনের নিকৃষ্ট নজির ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী: দিলীপ শইকিয়া বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ ঘোষিত জরুরি অবস্থাকে স্মরণ করে আজ ভারতীয় জনতা পার্টি সারা দেশে কালো দিবস পালন করেছে। অসমেও প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা ও মণ্ডল স্তর পর্যন্ত এই কালো দিবস পালিত হয়েছে। রাজ্য…

স্বৈরাচারী শাসনের নিকৃষ্ট নজির ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী: দিলীপ শইকিয়া

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলী আহমেদ ঘোষিত জরুরি অবস্থাকে স্মরণ করে আজ ভারতীয় জনতা পার্টি সারা দেশে কালো দিবস পালন করেছে। অসমেও প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা ও মণ্ডল স্তর পর্যন্ত এই কালো দিবস পালিত হয়েছে। রাজ্য বিজেপির উদ্যোগে গুয়াহাটির শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্র দামোদরদেব প্রেক্ষাগৃহে কালো দিনের আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত জরুরি অবস্থার সময় নির্যাতিত ও কারাবাস খাটা ৪১ জন লোকতন্ত্র সেনানীকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। অসম প্রদেশ বিজেপির মুখ্য কার্যালয় অটল বিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে দলের সভাপতি দিলীপ শইকিয়া এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে কংগ্রেস কতটা নিচে নামতে পারে তার নিকৃষ্ট উদাহরণ হল ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কাই তথাকথিত গান্ধী পরিবারকে কীভাবে ত্রস্ত করে তোলে, হিতাহিত জ্ঞান শূন্য করে দেয় তার উদাহরণ ইন্দিরা গান্ধী। দেশের জনতা তাদের কাছে ক্ষমতা আহরণের উৎস মাত্র। জনতা জনার্দনের দেওয়া রায়কেও ভেঙেচুরে ক্ষমতার টিঙ থেকে না নামার চূড়ান্ত স্বৈরাচারী আচরণের ভয়ংকর নজির হল সেই জরুরি অবস্থা। ১৯৭০ সালে নিজ খেয়ালখুশিতে লোকসভা ভেঙে ১৯৭১ সালে মধ্যকালীন নির্বাচন করান ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭১ সালে এলাহাবাদ উচ্চ ন্যায়ালয় তার নির্বাচন অবৈধ বলে ঘোষণা করলে ক্ষমতা হারানো নিশ্চিত জেনে পদত্যাগ না করে অবৈধভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। আভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অজুহাতে ঘোষিত জরুরি অবস্থা ন্যায়পালিকা, কার্যপালিকা, বিধানমণ্ডল এমনকি সংবাদমাধ্যমের কর্তৃত্ব ও স্বাধীনতা খর্ব করেছিল। ইন্দিরা গান্ধীর মুখের কথাই আইনে পরিণত হয়েছিল। কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারের বিরোধিতা করা ১ লাখের বেশি বিরোধী দলের নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারের অন্ধকার কুঠুরিতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সব ধরনের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ ও আন্দোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।


রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিজেপির পূর্বসূরি রাজনৈতিক দল জনসংঘের নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আদবানী সহ হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমকে নিজের মতো সংবাদ পরিবেশনে বাধা দেওয়া হয়েছিল। সব জায়গায় সেন্সর লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সব জায়গায় গণতান্ত্রিক মত প্রকাশের অধিকার খর্ব করা হয়েছিল। এই সবকিছু করা হয়েছিল কেবল ইন্দিরা গান্ধীর ক্ষমতা রক্ষা করতে ঐতিহাসিকভাবে কংগ্রেস দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে কেবল নিজের ক্ষমতা আহরণের স্বার্থে ব্যবহার করে, জরুরি অবস্থার ঘোষণা যুগে যুগে সেই কথাই স্মরণ করায়। গণতন্ত্র ধ্বংসকারী কংগ্রেসের জরুরি অবস্থার বিভীষিকাময় দিন স্মরণ করে আয়োজিত ৫১তম কালো দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, রাজ্য বিজেপির প্রভারী হরিশ দ্বিবেদী, অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার দাস, মন্ত্রী নীলিমা দেবী, কৌশিক রায় ও গুয়াহাটি লোকসভার সাংসদ বিজুলী কলিতা মেধি। অনুষ্ঠানে তারা গণতন্ত্র ও সংবিধানকে পদদলিত করা সেই কালো দিনগুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বক্তব্য রাখেন। কমল কুমার মেধি, মুখপাত্র, ভারতীয় জনতা পার্টি, অসম প্রদেশ এর পক্ষ থেকে এ খবর জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *