,

জরিমানা বাড়ার ধাক্কা, ট্রেনে ফিরছে শৃঙ্খলা, উদ্বেগে হকাররা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ট্রেনে উঠেই গেট আটকে হকারের হাঁকডাক, পা রাখার জায়গা নেই—এই দৃশ্য এবার অতীত হতে চলেছে। ভারতীয় রেল সাম্প্রতিক নির্দেশে ট্রেনের মধ্যে অনিয়মের জন্য জরিমানার পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় হাওড়া থেকে ছাড়া পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব শাখার লোকাল থেকে এক্সপ্রেস—সব ট্রেনেই প্রভাব পড়েছে। বিনা টিকিটে ভ্রমণ, ধূমপান, অনুমতি ছাড়া যাত্রী এলাকায় ঢোকা, অশোভন আচরণ…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: ট্রেনে উঠেই গেট আটকে হকারের হাঁকডাক, পা রাখার জায়গা নেই—এই দৃশ্য এবার অতীত হতে চলেছে। ভারতীয় রেল সাম্প্রতিক নির্দেশে ট্রেনের মধ্যে অনিয়মের জন্য জরিমানার পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ায় হাওড়া থেকে ছাড়া পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব শাখার লোকাল থেকে এক্সপ্রেস—সব ট্রেনেই প্রভাব পড়েছে। বিনা টিকিটে ভ্রমণ, ধূমপান, অনুমতি ছাড়া যাত্রী এলাকায় ঢোকা, অশোভন আচরণ আর বিপজ্জনক সামগ্রী নিয়ে ওঠার জন্য এখন সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। এই কড়াকড়ির পর থেকেই ট্রেনের ভিতর অবৈধ হকার আর ভিক্ষুকের সংখ্যা চোখে পড়ার মতো কমেছে বলে জানাচ্ছেন নিত্যযাত্রীরা। অফিস টাইমে হাওড়া-ব্যান্ডেল, হাওড়া-খড়্গপুর, হাওড়া-পাঁশকুড়া লোকালে যে ভিড় আর ঠেলাঠেলি হত, সেখানে এখন কিছুটা স্বস্তি মিলছে। যাত্রী দূর্বা চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, আগে একটা স্টেশন পার হতে না হতেই দশ রকমের জিনিস নিয়ে হকার উঠে পড়ত। তাতে শুধু অসুবিধা নয়, মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন থাকত। রেলের এই উদ্যোগে ট্রেনের পরিবেশ অনেকটাই বদলেছে। তবে যাত্রীদের আরেক অংশের যুক্তি, দীর্ঘ পথে চা, জল বা হালকা খাবারের দরকার তো পড়েই। হকাররা না থাকলে সেই চাহিদা মেটাবে কে। তাঁদের প্রস্তাব, রেল যদি স্টেশনে নির্দিষ্ট জায়গায় ছোট চা-বিস্কুটের স্টল বসায়, তবে যাত্রীরাও উপকৃত হবেন, হকারদেরও বিকল্প মিলবে।

নতুন নিয়মে সাধারণ যাত্রীরা স্বস্তি পেলেও বিপাকে পড়েছেন ট্রেনকে ভরসা করে সংসার চালানো মানুষগুলো। হাওড়া-খড়্গপুর লাইনে চা-জল বেচে দিন গুজরান করা এক হকারের আক্ষেপ, দীর্ঘ বছর ধরে এই পথই তাঁর রুজি-রুটি। হঠাৎ ধরপাকড় আর মোটা জরিমানার ভয়ে ট্রেনে ওঠা বন্ধ করলে ঘরে হাঁড়ি চড়বে কী করে। তাঁর দাবি, সব হকার তো যাত্রীদের বিরক্ত করে না। বহু মানুষ চা, জল, খবরের কাগজের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসই বিক্রি করেন। শুধু জরিমানা বাড়িয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না, সরকারকে বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে। ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনও একই আশঙ্কার কথা বলেছেন। হাওড়া-জকপুর প্যাসেঞ্জার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অজয় দোলুই বলেন, নিয়ম মানা আর শৃঙ্খলা ফেরানো অবশ্যই দরকার। দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়, হকারি আর ভিক্ষাবৃত্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে জরিমানার অঙ্ক এত বেশি যে অসাবধানতায় বা অজান্তে নিয়ম ভেঙে ফেললে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বড় চাপ হয়ে দাঁড়াবে। আইন প্রয়োগের সময় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা জরুরি। রেল সূত্র জানাচ্ছে, যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিষেবার মান বাড়ানো আর ট্রেনের ভিতর শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। আগামী দিনে স্টেশন চত্বর ও চলন্ত ট্রেনে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *