,

বেকারত্ব ঘোচাতে ৪১৮টি ‘নিজস্ব শিক্ষা কেন্দ্র’ চেয়ে প্রস্তাব

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। গুয়াহাটি: দেশে বেকারত্ব কমাতে এবং নিজের দেশের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে এক বড় প্রস্তাব জমা পড়ল দেশের প্রধানমন্ত্রী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। গুয়াহাটির শিক্ষাবিদ পিনাকী ধর তাঁর প্রস্তাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ২৯২টি ও অসমের ১২৬টি বিধানসভা এলাকা  মোট ৪১৮টি জায়গায় গড়ে তুলতে হবে ‘নিজস্ব শিক্ষা ও কর্মকেন্দ্র’। প্রস্তাবের সব তথ্য একনজরে: ১.কেন্দ্র কেমন হবে…

বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। গুয়াহাটি: দেশে বেকারত্ব কমাতে এবং নিজের দেশের দক্ষতাকে কাজে লাগাতে এক বড় প্রস্তাব জমা পড়ল দেশের প্রধানমন্ত্রী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।

গুয়াহাটির শিক্ষাবিদ পিনাকী ধর তাঁর প্রস্তাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের ২৯২টি ও অসমের ১২৬টি বিধানসভা এলাকা  মোট ৪১৮টি জায়গায় গড়ে তুলতে হবে ‘নিজস্ব শিক্ষা ও কর্মকেন্দ্র’।

প্রস্তাবের সব তথ্য একনজরে:

১.কেন্দ্র কেমন হবে
প্রতি বিধানসভা এলাকায় একটি করে বড় আবাসিক বিদ্যালয়। শিশু শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চতম গবেষণা পর্যন্ত সব পড়া হবে এখানেই। পড়া শেষ করেই পড়ুয়া কাজ পাবে বা নিজে ব্যবসা করতে পারবে।

২.কত পড়ুয়া থাকবে
প্রথমে প্রতিটি কেন্দ্রে ৫০০০ থেকে ১০০০০ জন নিয়ে কাজ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে বাড়িয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ৫০০০০ হাজার পড়ুয়া করা হবে। সব মিলিয়ে লক্ষ্য ২ কোটি ৯ লক্ষ ছেলেমেয়ে।

৩.পড়ুয়ারা কী পাবে
সবকিছু বিনামূল্যে। পড়ার খরচ নেই, থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার খরচ নেই। প্রতি মাসে হাতে খরচের টাকাও দেওয়া হবে। সাথে যোগব্যায়াম, ধ্যান, সবার সামনে কথা বলা, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও জীবন চলার শিক্ষা দেওয়া হবে।

৪.পড়ার ধরন
পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সবার জন্য একই পড়া। মজবুত ভিত তৈরি হবে। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ছেলেমেয়ের মনের ঝোঁক দেখে ভাগ করে দেওয়া হবে। কেউ শিখবে বিজ্ঞান, কেউ বাণিজ্য, কেউ কলা, কেউ চিকিৎসা, কেউ কারিগরি বিদ্যা, কেউ নতুন ব্যবসা, কেউ হাতের কাজ। বইয়ের সাথে হাতে-কলমে কাজ শেখার উপর বেশি জোর দেওয়া হবে।

৫.দেশসেবার শপথ
পড়া শেষে সব পড়ুয়াকে শপথ নিতে হবে। তারা নিজের শেখা দিয়ে দেশ ও রাজ্যের উন্নতির কাজ করবে। এই শপথের জন্যই কেন্দ্রগুলো পরে নিজের খরচ নিজে চালাতে পারবে।

৬.টাকা আসবে কোথা থেকে
কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকার একসাথে টাকা দেবে। বড় কোম্পানির সমাজসেবার টাকা লাগানো হবে। আর পুরনো পড়ুয়ারা কাজ করে যে আয় করবে, তার একটা অংশ কেন্দ্রকে ফেরত দেবে। এভাবেই কেন্দ্র নিজের পায়ে দাঁড়াবে।

৭.আসল উদ্দেশ্য
পিনাকী ধর বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। লক্ষ্য হলো কাজের মানুষ তৈরি করা। শিশু বয়স থেকেই যদি ছেলেমেয়েদের দক্ষ করে তুলি, তবে বেকারত্ব থাকবে না। ভারত সারা বিশ্বে দক্ষ মানুষের জন্য সেরা হবে।”

তিনি সব দলের নেতাদের কাছে অনুরোধ করেছেন, দল-মত ভুলে অসম ও পশ্চিমবঙ্গে এই মডেল প্রথমে ছোট আকারে চালু করা হোক। শিক্ষা নিয়ে সবাই একসাথে কাজ করলেই বেকারত্বের গোড়া কাটা যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *