বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: শিলচর শহরের বিশেষ করে কাছাড় কলেজ পয়েন্ট থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত রাস্তার ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে আজ ১ জুন, রবিবার শিলচর পেনশনার্স ভবনে গুরুত্বপূর্ণ সভা করল ‘ইয়ুথস এগেইনস্ট সোশ্যাল ইভিলস’ ইয়াসি-র কেন্দ্রীয় কমিটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইয়াসি-র কেন্দ্রীয় সভাপতি সঞ্জীব রায়।
শহরের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ সভায় উপস্থিত থেকে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং শহরের করুণ সড়ক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় মত প্রকাশ করা হয়, শিলচর শহর ও সাধারণ মানুষের প্রতি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলির উদাসীনতা ও অনীহাপূর্ণ মনোভাব অত্যন্ত দুঃখজনক। বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তির পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কর্ণগোচর হয়নি।
বক্তাদের বক্তব্য
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইউনিফাইড ফোরাম ফর বরাক ভ্যালি ডেভেলপমেন্ট-এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অনির্বাণ ভৌমিক সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাস্তা ও নর্দমা নির্মাণে সংঘটিত বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি সাময়িক নয়, স্থায়ী সমাধানের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মী দীপক সেনগুপ্ত এই ধরনের অবহেলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তাব দেন। বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট-এর হৃষীকেশ দে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে অবিলম্বে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান।
নাগরিক স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম পরিষদ-এর বিমল কান্তি দে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং এই আন্দোলনে তাঁর সংগঠনের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশনের রেজাউল করিম বলেন, সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার বিষয়ে সরকারি দপ্তরগুলির যথাযথ সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি, কারণ এটিই রাস্তা নষ্ট হওয়ার অন্যতম মূল কারণ।
অ্যাডভোকেট জ্যোতিপ্রকাশ ভট্টাচার্য ইয়াসি-র এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং শিলচরের মানুষের নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এস ইউ সি আই-এর সুব্রত চন্দ্র নাথ বিবেকানন্দ রোডের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে রাস্তার অবস্থা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অবিলম্বে একটি ‘জনগণের কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।
বিশিষ্ট সমাজকর্মী আশীষ আচার্য বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় নয়, বরং কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জনগণের প্রশংসা করা উচিত। তিনি লিংক রোডের করুণ সড়ক পরিস্থিতি ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
শিলচর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বর্ষীয়ান অ্যাডভোকেট দুলাল মিত্রও শহরের করুণ রাস্তা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি পর্যায়ক্রমে কিন্তু শক্তিশালী গণআন্দোলনের পক্ষে মত দেন, যাতে সর্বাধিক সংগঠন, ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা যায়।
সমাজকর্মী ও ইয়াসি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রী বন্দিতা ত্রিবেদী রায় শিলচর ওয়াটার ওয়ার্কস রোডে ডাম্পিং মেশিন স্থাপনের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরেন।
যে যে এলাকার সমস্যা আলোচিত হলো
বিলপার, সোনাই রোড, লিংক রোড, রাঙ্গিরখাড়ি, কাঁঠাল রোড, ন্যাশনাল হাইওয়ে, কলেজ রোড, আশ্রম রোড, চেংকুড়ি রোডের বিভিন্ন এলাকা, তারাপুর, সার্কিট হাউস রোড, শ্মশান রোড, মালুগ্রাম, ঘনিয়ালা, ইটখোলা, সদরঘাট, জানিগঞ্জ, মধুরবন্দ রোড, চিরুকান্দি রোড এবং বিশেষ করে কাছাড় কলেজ পয়েন্ট থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা ও জলাবদ্ধতার বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।
সিদ্ধান্ত: স্মারকলিপি, নাহলে আন্দোলন
পরিশেষে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শিলচরের এই জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে একটি শক্তিশালী স্মারকলিপি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার নিকট প্রেরণ করা হবে এবং এর সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা সংযুক্ত থাকবে। নতুবা পরবর্তীতে যৌথভাবে এক ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যেতে বাধ্য হবে এই সংগঠনগুলি।
আগামী ৫ জুন ২০২৬, সকাল ১টায় কাছাড়ের মাননীয় জেলা কমিশনারের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে এবং এর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সমস্ত সরকারি দপ্তরে পাঠানো হবে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন প্রশান্ত ভট্টাচার্য, মান্না দত্ত, সাজন লস্কর, মনোজ কালোয়ার, আহাদ বড়ভূঁইয়া, গণেশ মণ্ডল, অমিত গোয়ালা এবং সাধু গৌড় প্রমুখ।
সভা শেষে ইয়াসি-র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশাসন আহাদ লস্কর ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।












