,

শিলচরে ৩৬০ প্রতিযোগীর অংশগ্রহণে দিনব্যাপী রবীন্দ্র সংগীত-নৃত্য প্রতিযোগিতা, ১৮ জন নির্বাচিত হবেন রাজ্যস্তরে

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার শিলচরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলাভিত্তিক রবীন্দ্র সংগীত ও রবীন্দ্র নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল। অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১১টায় এই প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা হয়। মাঙ্গলিক পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর উপস্থিত বিশিষ্টজনদের উত্তরীয় পরিয়ে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার শিলচরে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলাভিত্তিক রবীন্দ্র সংগীত ও রবীন্দ্র নৃত্য প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হল।

অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের উদ্যোগে সরকারি উচ্চতর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সকাল ১১টায় এই প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা হয়। মাঙ্গলিক পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অতিথিরা। এরপর উপস্থিত বিশিষ্টজনদের উত্তরীয় পরিয়ে ও স্মারক প্রদান করে সম্মান জানানো হয়।

এবছর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীরা জেলা-উপজেলা থেকে আসা মোট ৩৬০ জন প্রতিযোগী সংগীত ও নৃত্যের বিভিন্ন শ্রেণিতে অংশগ্রহণ করেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত প্রতিযোগীদের একের পর এক পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

প্রতিযোগিতায় সংগীত ও নৃত্য উভয় বিভাগের বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন শ্রীভূমি থেকে আসা বিশিষ্ট শিল্পী মধুমিতা দাস ভট্টাচার্য, পায়েল চক্রবর্তী কুরি, গীতা সরকার ও বীণা ভট্টাচার্য নাথ। তাঁদের বিচারে প্রতিটি পরিবেশনাই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দর্শকাসনে বসা অভিভাবক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা প্রতিযোগীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন।

উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কিশোর নাথ ও বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা। বিধায়ক কিশোর নাথ তাঁর বক্তব্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিতে অবদানের কথা স্মরণ করে নতুন প্রজন্মকে রবীন্দ্রচর্চায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা বলেন, পর্ষদের এই উদ্যোগ বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

অনুষ্ঠানের ফাঁকে বিজেপি কাছাড় জেলার সভাপতি রূপম সাহা বক্তব্য রাখেন। আয়োজক কমিটির প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে যারা মঞ্চে স্থান পাবে না তারা যেন হতাশ না হয়। আজ না পারলে কাল নিশ্চয়ই পারবে। প্রতিযোগিতার মনোভাব নিয়েই সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। বক্তব্য শেষে তিনি আয়োজক কমিটির প্রত্যেক সদস্যের হাতে স্মারক তুলে দেন।

এরপর জেলা সংযোজক ভাস্কর দাস স্বাগত ভাষণে জানান, অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান শিলাদিত্য দেবের উদ্যোগে টানা চার বছর ধরে বরাক উপত্যকার কাছাড়, হাইলাকান্দি ও শ্রীভূমি—তিন জেলায় এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। রবীন্দ্র সংগীত ও নৃত্যচর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিচারকমণ্ডলীর নিরপেক্ষ মূল্যায়নের ভিত্তিতে ১৮ জন প্রতিযোগীকে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত করা হবে বলে তিনি জানান।

দিনভর প্রতিযোগিতা শেষে বিকাল ৫টায় বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। নাম ঘোষণার মাধ্যমে দিনব্যাপী এই সাংস্কৃতিক উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভাস দেব, অভ্রজিৎ চক্রবর্তী ঝলক, জেলার সাংস্কৃতিক আধিকারিক স্নেয়াংশু শেখর রায়, জয়দীপ চক্রবর্তী, পুলক দাস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরিন্দম ভট্টাচার্য, সমাজকর্মী স্বর্ণালি চৌধুরী, শিলচর উচ্চতর বহুমুখী বালিকা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা বনিয়া দাস, সন্দীপন দত্ত পুরকায়স্থ, মিতালি দাস, কিষান দাস, ঝিমলি নাথ, জয়দীপ বিশ্বাস, দীপক নাথ, পরিতোষ চক্রবর্তী, প্রসেনজিৎ পাল, সন্তোষ চন্দ, শান্তিকুমার ভট্টাচার্য, কার্তিক রায়, আইনজীবী সোনালি দে, আবৃত্তিকার জনান্তিকা দেব ভট্টাচার্য সহ বহু সাংস্কৃতিক অনুরাগী ও অভিভাবক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *