বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন। নয়াদিল্লি : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর টানা দু’বছর অন্তরালে ছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার সেই অন্তরাল কাটিয়ে প্রকাশ্যে আসতে চলেছেন তিনি। আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে দু’বছর পর প্রথমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন আওয়ামী লিগ সভাপতি।
ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া FCC South Asia-এর আয়োজনে আগামী ৫ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়াম, মথুরা রোড-এ এই বৈঠক হবে। হাসিনা দিল্লিতে থেকেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখবেন। আমন্ত্রণপত্রে তাঁকে “বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লিগের প্রেসিডেন্ট” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হাসিনা সেখানে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা এবং নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে পারেন। পাশাপাশি ঢাকা ফেরার পরিকল্পনাও তিনি প্রকাশ করতে পারেন বলে জোর জল্পনা। রয়টার্সকে দেওয়া গত জুন-জুলাইয়ের সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিনি আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে দেশে ফিরতে চান। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আইনি লড়াই লড়ার কথাও বলেছেন। “গ্রেফতার বা মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও প্রস্তুত” – এমন মনোভাবও প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
জানা গিয়েছে, এই ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে শেখ হাসিনার ছেলে ও সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সাংসদ সাকিব আল হাসান, প্রাক্তন কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলি সিদ্দিক সহ আরও অনেকে উপস্থিত থাকতে পারেন।
৫ আগস্ট দিনটিরও আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। ২০২৪ সালের এই দিনেই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিলে হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। আর প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় এসে বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন এদিনই বলেছেন, “যেভাবে আওয়ামী লিগের নেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে, তা ভুল। এটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়। আওয়ামী লিগকে নিষিদ্ধ করাও সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আমি চাই শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুন।”
উল্লেখ্য, হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে শেষ হয়। এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নতুন সরকার আওয়ামী লিগ সরকারের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে আদালতের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লিগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে। এই সবকিছুর মধ্যেই ৫ আগস্টের সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে হাসিনা তাঁর “প্রত্যাবর্তনের” আনুষ্ঠানিক বার্তা দিতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












