মানস বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা: সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরির জন্য আগামীকাল থেকে সারা ভারতকে উত্তপ্ত করার এক আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জাল প্রকাশ্যে এসেছে। গান্ধীর অহিংসা আন্দোলনের আড়ালে ব্যপক হিংসার পরিকল্পনা রয়েছে বিদেশি ডিপ স্টেটের দালাল চক্রের পান্ডা অভিজিৎ দীপকের ককরোচ জনতা পার্টির। বাম, কংগ্রেস, মমতা টি এম সি, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টি সহ ২০ টি বিজেপি বিরোধী দল একজোট হয়ে এই বিদেশের ডলার পুষ্ট আরশোলাদের কাঁধে ভর দিয়ে এক সঙ্গে ১৩ টি রাজ্যে বিপর্যয় ঘটাতে নেমে পড়ছে ২ অক্টোবর থেকে। ব্যপক আন্দোলন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে হলেও আসল টার্গেট প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্রের বাঘা বাঘা গোয়েন্দারা গোপন টাউটের মাধ্যমে জেনেছেন,দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেশকে অস্থির করার ভয়ংকর ষড়যন্ত্র হয়েছে ডিপ স্টেটের নির্দেশে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুপ্ট কথাবার্তা ফাঁসের পর ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এর একটি চাঞ্চল্যকর সূত্রে প্রকাশ, ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টি -র নেতৃত্বে দেশ কাঁপানো এক আন্দোলনের নামে একটা দেশবিরোধী ভয়ংকর চক্রান্ত করা হয়েছে। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে একপ্রকার অচল করে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করে বাংলাদেশিদের তথা অনুপ্রবেশকারীদের অথবা অবৈধ ভোটারদের ভোট উৎসবে অংশগ্রহণ করানোর লক্ষ্যে পর্দার আড়াল থেকে এই মারাত্মক নীল নকশা তৈরি হয়েছে। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আগেই বলেছিলেন ভারতকে শুধু চীন বা পাকিস্তানের মতো বাইরের শত্রুর সাথে লড়তে হচ্ছে না, বরং দেশের ভেতরের কিছু অশুভ শক্তির বিরুদ্ধেও লড়তে হবে। বিরোধীরা সমাজকে টুকরো করতে লড়ছে, যাকে তিনি ‘আড়াইটি ফ্রন্টের যুদ্ধ’ বলেছিলেন। দেশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘরের এবং বাইরের শত্রুকে উদ্দেশ্য করে তিনি কথাগুলো বলেছিলেন। কিন্তু দুদিন আগে এই গোপন কথাবার্তা ফাঁসের ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে দোভালের সেই ধারণা এখন আরও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। চীন এবং পাকিস্তানকে যদি দুটি বড় ফ্রন্ট ধরা হয়, তবে দেশের ভেতরের যে শক্তিকে তিনি ‘হাফ ফ্রন্ট’ বা অর্ধেক শত্রু মনে করেছিলেন, আসলে সেই হাফ ফ্রন্ট আজ ঘরের শত্রু বিভীষণদের হাত ধরে আরও ৮টি আলাদা মারাত্মক ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে যা চীন এবং পাকিস্তানের থেকেও মারাত্মক বিপদজনক কারণ এরা ঘর শত্রু বিভীষণ!! অর্থাৎ অক্টোবর মাস থেকে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আমাদের দেশ ভারতকে টোটাল বাইরের দুটো এবং ঘরে আটটি অর্থাৎ ১০ টি ফ্রন্ট এ লড়তে হবে। দেশের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য দেশের অন্দরের অত্যন্ত সংবেদনশীল সেই আটটি ফ্রন্টের গোপন পরিকল্পনা নিচে দেওয়া হলো: এই ফ্রন্টগুলো ধাপে ধাপে একটার পর একটা সক্রিয় হবে, আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থির করবে আর পরিকল্পনা মত দাঙ্গা বাঁধাবে।

১. বামপন্থী ফ্রন্ট :
আন্দোলনের প্রথম পরিকল্পনাতেই দেশের বামপন্থী মতাদর্শের মানুষদের রাজপথে নামানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির মতো বিভিন্ন বামপন্থী ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মুম্বাইয়ের মাঠে বড় সংখ্যায় জড়ো করার ছক রয়েছে।
২. মারাঠা ও স্থানীয় ফ্রন্ট
মহারাষ্ট্রে এই আন্দোলনকে জোরালো করতে স্থানীয় মারাঠা আবেগকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য মারাঠা ক্রান্তি মোর্চা এবং শিবসেনার (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী) স্থানীয় নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের এই ভাগে সবার আগে যুক্ত করে রাস্তায় নামানো হবে।
৩. কৃষক ফ্রন্ট
দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের মতো বড় চেহারা দিতে এই ফ্রন্ট কাজ করবে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) এবং ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU)-এর সাথে যুক্ত সাধারণ চাষী ও কৃষকদের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুম্বাইয়ে নিয়ে এসে এই প্রতিবাদে সামিল করা হবে।
৪. ওবিসি ফ্রন্ট
অনগ্রসর বা ওবিসি (OBC) সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারের বিষয়টিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ওবিসি মহাসভা এবং পিছিয়ে পড়া জাতির কল্যাণে কাজ করা ছোট-বড় সংগঠনের সাধারণ মানুষদের এই ভাগে আন্দোলনের মূল স্রোতে নামানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৫. দলিত ও আদিবাসী ফ্রন্ট
সমাজের দলিত এবং আদিবাসী ভাই-বোনদের একজোট করার দায়িত্ব এই ফ্রন্টের। ভীম আর্মি, এবং বামসেফ (BAMCEF)-এর মতো দলিত অধিকার আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকদের এই ভাগে মাঠে নামানোর স্পষ্ট ব্লুপ্রিন্ট রয়েছে।
৬. শিখ ফ্রন্ট
এই ভাগে পাঞ্জাব এবং মুম্বাইয়ের শিখ সমাজকে প্রতিবাদের সাথে যুক্ত করা হবে। বিভিন্ন গুরুদ্বারা কমিটি ও শিরোমণি অকালী দলের সাথে যোগাযোগ করেছে।
৭. ছাত্র ও যুব ফ্রন্ট :
আন্দোলনের মূল শক্তি ও জোর ধরে রাখতে দেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর (যেমন JNU, AMU এবং জ্যামিয়া) অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস ফেডারেশন (AISF) এবং স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন (SIO)-এর মতো ছাত্র ও তরুণ যুবকদের এই ফ্রন্টের মাধ্যমে রাস্তায় নামানো হবে।
৮. ইসলামিক ফ্রন্ট
স্ক্রিনশটের সবশেষে থাকা এই ফ্রন্টের মূল ছক হলো মুসলিম সমাজের বড় জমায়েত তৈরি করা। জামায়াতে ইসলামী হিন্দ , জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড -এর মতো ধর্মীয় সংগঠন ও তাদের সাধারণ সমর্থকদের আন্দোলনের সমর্থনে মাঠে নামানোর কথা বলা হয়েছে।
ঘরের শত্রু বিভীষণরা আজ দেশকে ভেতর থেকে দুর্বল করতে এবং আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে নানা ভাগে মাঠে নামছে। এই আটটি ফ্রন্টের তৎপরতা দেখলেই বোঝা যায় ভারতের আসল শত্রু কারা; এদের স্বদেশের প্রতি তীব্র ঘৃণা বিরোধিতা, কায়দাকানুন, চরম শত্রুতা দেখলে হয়তো চীন আর পাকিস্তানও নিজেদেরকে ভারতের শত্রু বলতে লজ্জা পাবে।
মোদী সরকার সবদিক থেকে সতর্কতা ও প্রস্তুতি অবলম্বন করেছে। সেটা অনুমান করেই রাহুল গান্ধী আগে থেকেই অজিত দোভালের নামে অত্যন্ত নোংরা, নেতিবাচক ন্যারেটিভ তৈরি করছিল। এবার আশা করি বোঝা গেছে, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ফোন ট্যাপ করলে কার কতটা অসুবিধা!
বাইরের শত্রুর চেয়েও দেশের ভেতরের এই আটটি ছদ্মবেশী ফ্রন্ট আজ ভারতের অখণ্ডতা ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। এই স্পর্শকাতর সময়ে ওয়াশিংটন থেকে রাওয়ালপিন্ডি—সব আন্তর্জাতিক ভারত বিরোধী শক্তিই ভারতকে তীক্ষ্ণ আতশকাচের নিচে রেখে পর্যবেক্ষণ করছে। অজিত দোভাল সকলের অগোচরে সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কঠোর ভাষায় শাসিয়ে এসেছেন বাংলাদেশ যেন এই ধরনের চক্রান্তে অংশ গ্রহন না করে।












