বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: ফের ভিআইপি সংস্কৃতির নির্মম বলি হলেন এক সাধারণ মানুষ। শিলচর পৌরনিগম নির্বাচনের প্রচারে আসা মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পার করার জন্য রাস্তায় আটকে রাখা অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মুমূর্ষু রোগী রসরাজ চক্রবর্তী ওরফে রিন্টু ঠাকুর আজ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শিলচরের ভাঙা এলাকার বাসিন্দা রসরাজ চক্রবর্তীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু শহরের প্রাণকেন্দ্রে তখন মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার কনভয়ের জন্য রাস্তা ফাঁকা করার প্রস্তুতি চলছে। কড়া পুলিশি ঘেরাটোপে সেই বেড়াজালে আটকে পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি।
প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে সাইরেন বাজিয়েও রাস্তা পায়নি অ্যাম্বুলেন্সটি। পরে কোনওক্রমে হাসপাতালে পৌঁছালেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজ হার মানলেন তিনি।
ভাইরাল ভিডিও ও মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা
রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকার সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা নিজে। গতকাল গভীর রাতে তিনি তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে রাজ্যবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অনভিপ্রেত। আমি ব্যক্তিগতভাবে মর্মাহত। ভিআইপি মুভমেন্টের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।”
তিনি রাজ্যের ডিজিপি-কে কড়া নির্দেশ দেন, ভবিষ্যতে কোনও পরিস্থিতিতেই যেন অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবা আটকানো না হয়। প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ই থেমে যাবে, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সকে আগে যেতে দিতে হবে।
চার পুলিশ সাসপেন্ড
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরই কাছাড় জেলা পুলিশ প্রশাসন কর্তব্যরত চারজন পুলিশ কর্মীকে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, শুধু সাসপেন্ড বা ক্ষমা চাওয়াই কি যথেষ্ট? মাঠপর্যায়ে এই ‘ভিআইপি কালচার’ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন, যাতে রাস্তায় আর কোনও অ্যাম্বুলেন্সকে এভাবে আটকে থাকতে না হয়।












