বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: সম্প্রতি সমাপ্ত অসম বিধানসভা নির্বাচনের পর বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাঁরা সংস্কৃত ভাষায় নিজের পদ ও গোপনীয়তার শপথ নিয়ে ভারতের প্রাচীন ভাষা সংস্কৃতকে গৌরবান্বিত করেছেন, সেইসব বিধায়ককে সংস্কৃত ভারতী, উত্তর অসম প্রান্তের উদ্যোগে সংবর্ধনা জানানো হয়। অসম বিধানসভার কেন্দ্রীয় সভাকক্ষে এইবার অসম বিধানসভায় সংস্কৃত ভাষায় শপথ নেওয়া মোট ১৭ জন বিধায়ককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
৭ জুলাই সংবর্ধনা জানানো বিধায়করা হলেন যথাক্রমে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী বিমল বড়া, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, বিশ্বজিৎ দৈমারী, নীলিমা দেবী এবং বিধায়ক অমিয় কান্তি দাস, পৃথ্বীরাজ রাভা, পরমানন্দ রাজবংশী, বিজয় কুমার গুপ্তা, রাজদীপ গোয়ালা, মৃদুল কুমার দত্ত, পবিত্র রাভা, ময়ূর বরগোঁহাই ও মিলন দাস। এঁদের মধ্যে বিধায়ক সঞ্জয় কিষাণ, ভবেশ কলিতা, ভিক্টর দাস ও কৃষ্ণ কমল তাঁতী আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় সংস্কৃত ভারতীর পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে সংবর্ধনা পত্র পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন। অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার দাস সংস্কৃতে শপথ নিয়ে ভারতের প্রাচীন ভাষাকে গৌরবান্বিত করা অসম বিধানসভার সদস্যদের স্বাগত জানান এবং সংস্কৃত ভাষার প্রচার ও প্রসারের দিকে সংস্কৃত ভারতীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অসম বিধানসভায় ১৭ জন বিধায়ক এই ভাষায় শপথ নেওয়ার ফলেই আজ আমরা সকলে বিধানসভা চত্বরে এই সুন্দর অনুষ্ঠানে একত্রিত হতে পেরেছি। এর জন্য তিনি সংস্কৃত ভাষায় শপথ বাক্য পাঠ করা বিধায়কদের ধন্যবাদ জানান। সংস্কৃত ভাষার সংরক্ষণের পাশাপাশি সংবর্ধনের দিকেও সংস্কৃত ভারতীর মতো আমাদের প্রত্যেকের যথেষ্ট করণীয় আছে বলে উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেন, বিধানসভায় সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে পারা বিধায়কদের এই ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান। তাহলে বিধানসভাতেও সংস্কৃত ভাষা আধিকারিক, অনুবাদক ইত্যাদি পদের সৃষ্টির সুযোগ আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সংস্কৃত ভারতী, উত্তর অসম প্রান্তের সাংগঠনিক সম্পাদক ভবেন শইকীয়া উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন এবং সভানেত্রী ড.সুদেষ্ণা ভট্টাচার্য স্বাগত ভাষণ দেন। আজকের এই অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী বিমল বড়া, জয়ন্ত মল্ল বরুয়া, বিশ্বজিৎ দৈমারী, নীলিমা দেবী, সাংসদ দিলীপ শইকীয়া, অধ্যাপক প্রহ্লাদ যোশী, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কার্যবাহ খগেন শইকীয়াও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃত ভারতীর সম্পাদক পঙ্কজ শর্মার সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।












