১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা, ১৪ সেপ্টেম্বর যাচাই,১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের সুযোগ, ভোট ৩রা অক্টোবর
জনসংযোগ। শিলচর : শিলচর পুরনিগম নির্বাচন, ২০২৬ ঘিরে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী তৎপরতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। পুরনিগমের ৪২টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়ে গেল মনোনয়ন পর্ব। নির্বাচনী বিধি মেনে রিটার্নিং অফিসার বিধি ২৩-এর অধীনে ফর্ম ৪-এ নির্বাচনী গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। এর সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে গেল মনোনয়ন জমা, যাচাই, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার এবং ভোটগ্রহণের সম্পূর্ণ সময়সূচি।
২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে শিলচর থেকে জারি করা পৃথক ওয়ার্ডভিত্তিক বিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময়, নির্দিষ্ট স্থান, সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে জানানো হয়েছে। শিলচর পুরনিগম নির্বাচন, ২০২৬-এর রিটার্নিং অফিসার তথা আইএএস আধিকারিক রাহুল কুমার গুপ্তার স্বাক্ষরে এই বিজ্ঞপ্তিগুলি জারি হয়েছে।
নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বুধবার) থেকে ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (শুক্রবার) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত নির্দিষ্ট আধিকারিকদের বিভাগ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা যাবে। সরকারি ছুটির দিন বাদে যে কোনও দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত প্রার্থী অথবা তাঁর প্রস্তাবক সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১১ সেপ্টেম্বর।
এর পরেই শুরু হবে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (সোমবার) সকাল ১১টা থেকে শিলচরের গভর্নমেন্ট বয়েজ’ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে মনোনয়নপত্রের যাচাই অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলির গোষ্ঠী অনুযায়ী পৃথক কক্ষ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। কোনও প্রার্থী নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে চাইলে ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ৩টে পর্যন্ত প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নোটিশ জমা দিতে পারবেন। প্রার্থী নিজে ছাড়াও তাঁর প্রস্তাবক অথবা নির্বাচনী এজেন্ট এই নোটিস জমা দিতে পারবেন।
ওয়ার্ডগুলির সংরক্ষণ ব্যবস্থাতেও বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে। ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতি (মহিলা)-র জন্য সংরক্ষিত, ৫ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ রাখা হয়েছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতি (মহিলা)-র জন্য সংরক্ষিত।
১১ থেকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে ১১ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ, ১২ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ, ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
২১ থেকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে ২১, ২২, ২৩, ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ এবং ২৮, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। অন্য দিকে, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ। ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ রাখা হয়েছে।
মনোনয়ন গ্রহণ, প্রত্যাহারের নোটিস এবং মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের কাজ যাতে সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক পৃথক ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১ থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসার হলেন সীমান্ত বসুমাতারি, এসিএস, সহকারী আয়ুক্ত কাছাড়। শিলচরের গভর্নমেন্ট বয়েজ’ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ১ নম্বর কক্ষে তাঁর বিভাগ নির্ধারিত হয়েছে। এই পাঁচটি ওয়ার্ডের মনোনয়নপত্র যাচাইও ১ নম্বর কক্ষেই হবে।
৬ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়নপত্র এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নোটিস জমা দিতে হবে শিলচরের সহকারী আয়ুক্ত এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মানস প্রতিম বংজাং, এসিএস-এর কাছে। এর জন্য গভর্নমেন্ট বয়েজ’ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ২ নম্বর কক্ষ নির্ধারিত হয়েছে। ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যাচাই হবে ২ নম্বর কক্ষে এবং ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের যাচাই হবে ৩ নম্বর কক্ষে।
১১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসার হলেন মাসি টোপনো, এসিএস, সহকারী আয়ুক্ত, ধলাই সম -জেলা, তাঁর দফতর ৩ নম্বর কক্ষে। ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়নপত্র যাচাই হবে ৩ নম্বর কক্ষে এবং ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের যাচাই হবে ৪ নম্বর কক্ষে।
১৬ থেকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়নপত্র এবং প্রত্যাহারের নোটিস জমা দিতে হবে লক্ষীপুরের চক্র আধিকারিক এবং সহকারী আয়ুক্ত, কৃষ্ণন কিশোর সাহারিয়ার, এএলআরএস-এর কাছে। এর জন্য ৪ নম্বর কক্ষ নির্ধারিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলির যাচাইও সেখানেই হবে।
২১ থেকে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট সহকারী রিটার্নিং অফিসার হলেন দীক্ষা সরকার, এসিএস, সহকারী আয়ুক্ত, ধলাই সম-জেলা । শিলচরের গভর্নমেন্ট বয়েজ’ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ৫ নম্বর কক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এই ওয়ার্ডগুলির মনোনয়নপত্র যাচাইও ৫ নম্বর কক্ষেই অনুষ্ঠিত হবে।
২৬ থেকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট আধিকারিক হলেন অন্তু বরদলৈ, এসিএস, নির্বাচন আধিকারিক , শিলচর এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার। ৬ নম্বর কক্ষে মনোনয়নপত্র এবং প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নোটিস জমা দিতে হবে এবং একই কক্ষে যাচাইপর্বও অনুষ্ঠিত হবে।
৩১ থেকে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়নপত্র ও প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের নোটিস জমা দেওয়া যাবে সোনাইয়ের চক্র আধিকারিক এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার দিবাকর দেব, এএলআরএস-এর কাছে। এর জন্য গভর্নমেন্ট বয়েজ’ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ৭ নম্বর কক্ষ নির্ধারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলির মনোনয়নপত্র যাচাইও ৭ নম্বর কক্ষেই হবে।
৩৭ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য নির্দিষ্ট আধিকারিক হলেন বড়খলার চক্র আধিকারিক এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার আরিফ আহমেদ চৌধুরী, এএলআরএস। ৮ নম্বর কক্ষে মনোনয়নপত্র এবং প্রত্যাহারের নোটিস জমা দিতে হবে। ৩৭ থেকে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের মনোনয়নপত্র যাচাইও ৮ নম্বর কক্ষেই অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ৩রা অক্টোবর, ২০২৬ (শনিবার) সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে মনোনয়নপত্র জমা থেকে শুরু করে যাচাই, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার এবং শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকল প্রার্থী, তাঁদের প্রস্তাবক এবং নির্বাচনী এজেন্টকে নিজ নিজ ওয়ার্ডের নির্বাচনী গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ, সময় ও নির্দিষ্ট স্থান কঠোর ভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়ার্ডভিত্তিক পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে মনোনয়ন থেকে শুরু করে যাচাইপর্ব পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই সুশৃঙ্খল ভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিলচর পুরনিগম নির্বাচন, ২০২৬-এর রিটার্নিং অফিসার তথা আইএএস আধিকারিক রাহুল কুমার গুপ্তা ২রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে শিলচর থেকে এই নির্বাচনী গণবিজ্ঞপ্তিগুলি জারি করেছেন। ৪২টি ওয়ার্ডের জন্য জারি করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিগুলিই পুরনিগমের কাউন্সিলর পদগুলির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি হিসেবে গণ্য হবে। প্রতিটি বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সমস্ত বিধিবদ্ধ তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।












