,

উইলে শুধু সই-টিপসই আর রেজিস্ট্রেশনই শেষ কথা নয়, বড় রায় সুপ্রিম কোর্টের

বরাককণ্ঠ ডেস্ক। ২ সেপ্টেম্বর: উইল বা ইচ্ছাপত্র নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল, কাগজে মালিকের সই বা আঙুলের ছাপ থাকলেই এবং সেটি রেজিস্ট্রি করা থাকলেই উইল বৈধ হয়ে যায় না। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ,…

বরাককণ্ঠ ডেস্ক। ২ সেপ্টেম্বর: উইল বা ইচ্ছাপত্র নিয়ে দেশজুড়ে চলা বিতর্কের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিল, কাগজে মালিকের সই বা আঙুলের ছাপ থাকলেই এবং সেটি রেজিস্ট্রি করা থাকলেই উইল বৈধ হয়ে যায় না।

বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, একটি উইলকে আইনত বৈধ হতে হলে ভারতীয় উত্তরাধিকার আইন এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের কঠোর শর্ত পূরণ করতেই হবে।

কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?

১. ভারতীয় উত্তরাধিকার আইনের ৬৩(সি) ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি উইলে কমপক্ষে দুজন সাক্ষীর স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক। এই সাক্ষীদের উইলের মালিককে নিজে চোখে সই করতে দেখতে হবে অথবা মালিক ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে সই করার বিষয়টি স্বীকার করবেন।

২. শুধু মালিকের সই থাকলেই হবে না। রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলেও সাক্ষীর সইয়ের শর্তে কোনও ছাড় নেই।

৩. সাক্ষীরা জীবিত থাকলে তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনকে আদালতে এসে উইলের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে। যিনি শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু সাক্ষী হিসেবে সই করেননি, তাঁর বক্তব্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।

৪. সাক্ষীরা মারা গেলে বা তাঁদের খুঁজে পাওয়া না গেলে তবেই বিকল্প উপায়ে উইলের সত্যতা প্রমাণের চেষ্টা করা যেতে পারে। অন্যথায় নয়।

১৯৭৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের একটি পুরনো উইল সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই রায় দেন বিচারপতিরা। ওই উইলের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেই আদালত এই কড়া পর্যবেক্ষণ দেয়। আদালতের মতে, উইলের বৈধতা নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ থাকলেও নিরপেক্ষ ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য অপরিহার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *