বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর : শিলচর পৌরনিগম নির্বাচনের প্রাক্কালে বুধবার শহরে ছিল মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মার ঠাসা কর্মসূচি। একদিকে পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপির বিজয় সংকল্প সমাবেশে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে ৪২ ওয়ার্ডে বিজেপিকে জেতানোর আহ্বান জানালেন তিনি, অন্যদিকে তাঁরই কনভয়ের জন্য রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিলেন।
উন্নয়নের জন্য ৮২ হাজার কোটির প্রকল্প, ২৪ ঘণ্টা জলের প্রতিশ্রুতি
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিলচরকে আর সাধারণ শহর নয়, একটি আধুনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে শিলচরের যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ উদ্যোগ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সহযোগিতায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে —
– জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার আমূল সংস্কার
– বহু প্রতীক্ষিত শিলচর-শিলিগুড়ি রেল পরিষেবার উন্নয়ন
– শহরের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সংস্কার এবং নালা-নর্দমা পরিষ্কারের কাজ
– পানীয় জলের দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে মেগা পানীয় জল প্রকল্প
– শহরে ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা
– বর্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও জমে থাকা জল নিষ্কাশনের জন্য মাস্টার প্ল্যান
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই কাজগুলো সম্পূর্ণ হলে শিলচরের চেহারা বদলে যাবে।
ভুয়া সার্টিফিকেট ইস্যুতে কড়া বার্তা
পৌরনিগম নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কোনও প্রার্থী যদি ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র জমা দিয়ে থাকেন এবং তা তদন্তে প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে ভুয়া প্রার্থী বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাশাপাশি বিজেপির বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্রভাবে দাঁড়ানো প্রার্থীদের বিষয়েও দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি।
তিনি বলেন, “মানুষ উন্নয়ন চায়। বিজেপি সরকার যে কাজ করেছে, তার ভিত্তিতেই মানুষ ভোট দেবে। তাই শিলচর পৌরনিগমের দায়িত্ব বিজেপির হাতে তুলে দিন।”

কনভয়ের জন্য অ্যাম্বুলেন্স আটকানোয় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে শিলচর শহরেই ঘটে যায় এক অনভিপ্রেত ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পার করানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশ একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তায় আটকে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা নজরে আসতেই সন্ধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি লেখেন, “জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন কোনও রোগীর জীবনের চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর যাত্রা কখনওই বড় হতে পারে না।”
এই ঘটনার জন্য ভুক্তভোগী রোগী ও তাঁর পরিবারের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর কনভয় চলাচল নিয়ে প্রশাসনের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে — কোনও অবস্থাতেই সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করা যাবে না। এই নির্দেশ কে বা কারা অমান্য করল, তা খুঁজে বের করতে তিনি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি সাফ জানিয়ে দেন —
১) কনভয় চলাচলের নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে,
২) সাধারণ মানুষের যেন কোনও ভোগান্তি না হয়,
৩) দোষী প্রমাণিত হলে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সংবেদনশীল পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নেটিজেনদের একাংশ।
এদিনের বিজয় সংকল্প সমাবেশে ৪২টি ওয়ার্ডের বিজেপি মনোনীত প্রার্থীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী কৌশিক রায়, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, রাজ্যসভার সাংসদ কনাদ পুরকায়স্থ ও সুস্মিতা দেব, শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, বিধায়ক ড.মিলন দাস, বিজয় মালাকার, রাজদীপ গোয়ালা, ডা: রাজদীপ রায়, কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, অমিয় কান্তি দাস সহ বিজেপির জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব। আগামী ৩ অক্টোবর শিলচর পৌরনিগমের ভোট।













