,

ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬-এর দ্বিতীয় সংস্করণ

আপার অসমের ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সম্মাননা বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। ডিব্রুগঢ় : শিক্ষক সমাজের অবদান ও সমাজ গঠনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ (আপার অসম)। এই উপলক্ষে আজ ডিব্রুগড়ের হোটেল ট্রি কান্ট্রিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেআইএস গ্রুপের ডেপুটি ডিরেক্টর—বিজনেস ডেভেলপমেন্ট…

আপার অসমের ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সম্মাননা

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। ডিব্রুগঢ় : শিক্ষক সমাজের অবদান ও সমাজ গঠনে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ (আপার অসম)। এই উপলক্ষে আজ ডিব্রুগড়ের হোটেল ট্রি কান্ট্রিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেআইএস গ্রুপের ডেপুটি ডিরেক্টর—বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিদ্যুৎ মজুমদার, সমাজকর্মী সামিম আখতারা আলি, ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড.সৌমেন ভারতীয়া প্রমুখ। এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক, সম্মানপ্রাপকদের বিষয়ে এবং এবারের আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।

উচ্চ অসমের শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা, সংস্কৃতি ও সমাজ গঠনে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলা ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এবারের ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এ সম্মানিত করা হবে। আগামীকাল ১ অক্টোবর ডিব্রুগড়ের ডি.এইচ.এস.কে. কলেজ অডিটোরিয়ামে, বিকেল ৪টা থেকে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণটি উৎসর্গ করা হচ্ছে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, অভিনেত্রী, অসমিয়া লেখক এবং মানবিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব প্রয়াত জাবিন আখতারা বেগমের ১৯৫০-২০২২ পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে। ভিক্টোরিয়া বেংগলি গার্লস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ভাইস-প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি শিক্ষা, সাহিত্য, নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর শিক্ষাদর্শ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং মানবিক মূল্যবোধ বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর অসামান্য অবদান ও মানবিক উত্তরাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবারের অনুষ্ঠানটি তাঁর স্মৃতির উদ্দেশে নিবেদিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ডিব্রুগঢ় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র ড. সৈকত পাত্র, ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড, জেআইএস গ্রুপের ডেপুটি ডিরেক্টর-বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিদ্যুৎ মজুমদার, অফিস অব অ্যাডমিশনস অ্যান্ড আউটরিচ জয়ন্ত বাগচী, জেটউইংস গ্রুপ অব ইনস্টিটিউটসের চেয়ারম্যান সঞ্জর আদিত্য সিং, সমাজকর্মী সামিম আখতারা আলি, ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড. সৌমেন ভারতীয়া প্রমুখ।

এবারের সম্মানপ্রাপকদের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে- ডি.আই.ই.টি., চাবুয়া, দিল্লি পাবলিক স্কুল, ডিব্রুগঢ়, ড. রাধাকৃষ্ণন স্কুল অব আর্টস, কমার্স অ্যান্ড সায়েন্স, কারিয়ার পয়েন্ট এডুভেঞ্চার প্রাইভেট লিমিটেড, তিসুকিয়া সেশাকোষ মিডল ইংলিশ স্কুল, বাকপাড়া এম.ই. স্কুল, ডিব্রুগঢ় বেংগলি হাই স্কুল, নন্দেশ্বর চক্রবর্তী হাই স্কুল, মানকাটা এম.ই. স্কুল, শান্তিপাড়া বেংগলি হাই স্কুল, ডিকোম পি.ডি.এম.ই. স্কুল, জেউতি মরল এম.ই. স্কুল, ডিব্রুগঢ় বিশ্ববিদ্যালয়, ডি.এইচ.এস.কে. কলেজ, শ্রী অগ্রসেন অ্যাকাডেমি, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, অয়েল, দুলিয়াজান, সেন্ট জুড স্কুল, বিবেকানন্দ কেন্দ্র বিদ্যালয়, তিসুকিয়া, খোয়াং কলেজ, গুরুকুল সঙ্গীত নৃত্য কলাকেন্দ্র, ডিব্রুগঢ়, মার্গারিটা কলেজ, ডন বস্কো হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, ডিব্রুগঢ়, রামধেনু আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট অ্যাকাডেমি, এন.কে.ডি. সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল, তিসুকিয়া, গভর্নমেন্ট বয়েজ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, ডিব্রুগঢ়, কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ডিব্রুগঢ়, ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস, সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়, ডিব্রুগঢ়, নহরতালি টি.ই. মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, দিগবৈ কলেজ, দুলিয়াজান নবজ্যোতি এম.ই. স্কুল, ময়ূরী নৃত্য নিকেতন, ডুমডুমা কলেজ, মনোহরী দেবী কানৈ গার্লস কলেজ, রহমারিয়া হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, বিদ্যা ভারতী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, তিসুকিয়া, সেন্ট থমাস স্কুল, দুলিয়াজান, লিটল ফ্লাওয়ার হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, অসম হাইটস পাবলিক স্কুল, তিনচুকিয়া, সল্ট ব্রুক একাডেমী, ডিব্রুগড়।

শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, অবদান ও সমাজ নির্মাণে শিক্ষকদের ভূমিকার প্রতি সম্মান জানানোই ‘গুরু গৌরব সম্মান’-এর মূল উদ্দেশ্য। একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবিষয় শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, জ্ঞান, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথ নির্মাণ করেন। সেই মহান ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ।

আপার অসমের বিভিন্ন প্রান্তে নীরবে শিক্ষা ও মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানানোর মাধ্যমে ‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ শিক্ষকতার মর্যাদা ও গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড.সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “একজন শিক্ষকের অবদান কখনও শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন আদর্শ শিক্ষক তাঁর জ্ঞান, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও জীবনদর্শনের মাধ্যমে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। ‘গুরু গৌরব সম্মান’-এর মাধ্যমে আমরা সেই নীরব নির্মাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাই। উচ্চ অসমের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সমাজ গঠনে অবদান রেখে চলা ৫০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে সম্মান জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। এবারের অনুষ্ঠানটি প্রয়াত শিক্ষাবিদ, অভিনেত্রী, লেখক ও মানবিক ব্যক্তিত্ব জাবিন আখতারা বেগমের পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আমাদের সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর স্মৃতিকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামী প্রজন্মের কাছে শিক্ষকের মর্যাদা ও গুরুত্ব আরও গভীরভাবে পৌঁছে দিতে চাই।”

জেআইএস গ্রুপের ডেপুটি ডিরেক্টর—বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিদ্যুৎ মজুমদার বলেন, “অসমের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যতিক্রম গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এর আগে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আপার অসমে এসে ‘গুরু গৌরব সম্মান’-এর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। শিক্ষকদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের অবদানকে বৃহত্তর সমাজের সামনে তুলে ধরার এই উদ্যোগ সত্যিই তাৎপর্যপূর্ণ। আপার অসমের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংযুক্ত হতে পেরে আমি বিশেষভাবে আনন্দিত এবং আগামী দিনেও এই ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রত্যাশা রাখি।”

সমাজকর্মী সামিম আখতারা আলি বলেন, “ব্যতিক্রম গ্রুপের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত রয়েছি এবং তাদের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছে। ডিব্রুগড় আমার নিজের শহর, তাই নিজের শহরে এসে ব্যতিক্রমের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমার আনন্দ আরও বেশি। ‘গুরু গৌরব সম্মান’-এর মতো একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আপার অসমের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিজের শহরে দাঁড়িয়ে এই আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।”

‘গুরু গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর দ্বিতীয় সংস্করণ আয়োজনে সহযোগিতায় রয়েছে জেআইএস গ্রুপ এডুকেশনাল ইনিশিয়েটিভস, ভবানীপুর গ্লোবাল ক্যাম্পাস (পূর্বতন এনএসএইচএম কলকাতা), নেরিম, রেংগনি-আ রে অব হোপ, জেট উইংস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *