বিশেষ প্রতিবেদন: দেশের প্রতিটি বাড়িতে এখন রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার অপরিহার্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের অজানাই রয়ে গেছে একটি বড় সুবিধা। রান্নার গ্যাসের বৈধ সিলিন্ডার থাকলেই গ্রাহক এবং তার পরিবার বিনামূল্যে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দুর্ঘটনা সুরক্ষা পেয়ে যান। এর জন্য আলাদা কোনো টাকা জমা দিতে হয় না।
তেল বিক্রেতা রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি বৈধ গ্যাস সংযোগের সাথে দুর্ঘটনা বিমা জুড়ে দেওয়া থাকে। রান্নার গ্যাস অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। পাইপ পুরনো হয়ে যাওয়া, রেগুলেটর নষ্ট হওয়া বা সিলিন্ডারের গায়ে মরচে ধরার মতো কারণে গ্যাস লিক হয়ে আগুন লাগার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এমন দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দিতেই এই ব্যবস্থা।
সুরক্ষার পরিমাণ কত?
একটি দুর্ঘটনায় পরিবার সমেত সর্বোচ্চ পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সাহায্য পাওয়া যায়। পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের চিকিৎসার জন্য মাথাপিছু সর্বোচ্চ দুই লক্ষ টাকা বরাদ্দ আছে। মোট চিকিৎসা খরচ ত্রিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা সম্ভব। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে মৃতের পরিবার ছয় লক্ষ টাকা পাবে। আগুনে ঘরবাড়ি বা আসবাবপত্রের ক্ষতি হলে তার জন্য দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের নিয়ম আছে। এছাড়া পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা করে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা ধার্য আছে।
দাবি করার পদ্ধতি:
দুর্ঘটনা ঘটলে প্রথমেই নিকটবর্তী থানায় ঘটনার বিবরণ লিখিয়ে রাখতে হবে। একই সাথে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার স্থানীয় দপ্তরকে জানাতে হবে। এরপর বিমা সংস্থা ঘটনার তদন্ত করবে। তদন্তে প্রমাণিত হলে যে দুর্ঘটনার কারণ রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার, তখন বিমা সংস্থা নিজে থেকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে। গ্রাহককে আলাদা আবেদনপত্র জমা দিতে হয় না।
প্রয়োজনীয় নথি:
ক্ষতিপূরণ দ্রুত পেতে থানার অভিযোগপত্রের নকল, হাসপাতালের সব বিল ও রসিদ, চিকিৎসার কাগজপত্র, মৃত্যুর প্রমাণপত্র বা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন সংরক্ষণ করা জরুরি। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত জিনিসের ছবি বা ভিডিও থাকলে দাবি প্রমাণ করতে সুবিধা হয়।
তিনটি শর্ত অবশ্যই মানতে হবে:
১. সিলিন্ডারটি অবশ্যই বৈধভাবে নথিভুক্ত সংযোগ হতে হবে। বেআইনি সিলিন্ডারে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়।
২. সিলিন্ডারের গায়ে থাকা গোলাকার স্টিকারে পরীক্ষার মেয়াদ লেখা থাকে। মেয়াদ উত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার করলে ক্ষতিপূরণ বাতিল হতে পারে।
৩. গ্রাহকের নিজের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে, যেমন সিলিন্ডার শুইয়ে রাখা বা রেগুলেটর খুলে আগুন জ্বালানো, সেক্ষেত্রে বিমা সংস্থা দায় নেবে না।
সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর বহু মানুষ এই সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষজ্ঞরা তাই প্রতি ছয় মাস অন্তর পাইপ ও রেগুলেটর বদলানো এবং সিলিন্ডারের মেয়াদ পরীক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন।












