বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গাড়িতে থাকা আরেক যুবক বুদ্ধদেব বেরা, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কে এই চন্দ্রনাথ রথ
আদতে পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা হলেও চন্দ্রনাথ দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। বিগত পাঁচ বছর ধরে শুভেন্দু অধিকারীর সব কাজকর্মের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শুভেন্দুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং কার্যত ছায়াসঙ্গী বলেই পরিচিত চন্দ্রনাথ। বিজেপির একটি সূত্র জানাচ্ছে, ভবানীপুরে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর হয়ে যে ‘টিম’ কাজ করেছিল তার অন্যতম সদস্য ছিলেন চন্দ্রনাথ। তাঁর সঙ্গে গুলিবিদ্ধ বুদ্ধদেব বেরাও ওই টিমের সদস্য ছিলেন।
কীভাবে ঘটল হামলা
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে চারটি বাইকে মোট আটজন দুষ্কৃতী চন্দ্রনাথের স্করপিও গাড়ির পিছু নেয়। এদিন দিনভর শুভেন্দুর সঙ্গেই ছিলেন চন্দ্রনাথ। রাতে কাজের সূত্রে বারাসতের দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি দোহারিয়া লেনের ভিতরে ঢুকছিল।অভিযোগ, গাড়িটি কোন গলিতে ঢুকছে সে খবর আগে থেকেই দুষ্কৃতীদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। খবর পেয়ে হেলমেট পরা আততায়ীরা নম্বর প্লেটবিহীন বাইকে উল্টো দিক থেকে এসে গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। চালকের পাশের আসনে ছিলেন চন্দ্রনাথ, সঙ্গে ছিলেন বুদ্ধদেব।
হাসপাতালে মৃত ঘোষণা
দুষ্কৃতীরা ঘটনার পরই চম্পট দেয়। গুলিবিদ্ধ দুজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্ণধার প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, “চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে দু’টি গুলি লেগেছে। সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি। মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।”চিকিৎসক প্রীতম রাউন্ডে ছিলেন।চন্দ্রনাথের সঙ্গী বুদ্ধদেব বেরার বুকে ডান দিকে, পেটে ও ডান হাতে মোট তিনটি গুলি লেগেছে। তাঁর জ্ঞান ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁকে কলকাতার বাইপাসের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মধ্যমগ্রাম ও এয়ারপোর্ট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। গাড়ির কাচে তিনটি বুলেটের চিহ্ন স্পষ্ট। কারা এই হামলার পিছনে, উদ্দেশ্য কী—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যমগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরের জয়ী প্রার্থী শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সহায়কের উপর এই পরিকল্পিত হামলায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।












