,

ব্রিকস মঞ্চে মোদির ডাকে সাড়া দিল রাষ্ট্রসংঘ, নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবি আরও জোরালো

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: ১৯৪৫ সালের বিশ্ব আর ২০২৬ সালের বিশ্ব এক নয়। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো একুশ শতকের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন, সেই একই সুরে এবার কথা বলল খোদ রাষ্ট্রসংঘ। শনিবার ব্রিকসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নয়াদিল্লি: ১৯৪৫ সালের বিশ্ব আর ২০২৬ সালের বিশ্ব এক নয়। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো একুশ শতকের বাস্তবতা প্রতিফলিত করে না। ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন, সেই একই সুরে এবার কথা বলল খোদ রাষ্ট্রসংঘ।

শনিবার ব্রিকসের মঞ্চে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাশে রেখে বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ডাক দেন মোদি। তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথকে দীর্ঘদিন পিছনের সারিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এবার ক্ষমতার পিরামিড ভেঙে তাকে অংশীদারিত্বের মঞ্চে পরিণত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্ব করা যাবে না। এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে যেখানে প্রতিটি দেশের কণ্ঠস্বর শোনা যাবে এবং মানবতার অগ্রগতিই হবে মূল লক্ষ্য।”

মোদির এই বক্তব্যের পরেই প্রতিক্রিয়া জানায় রাষ্ট্রসংঘ। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক ANI-কে বলেন, “মহাসচিব শুরু থেকেই নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের পক্ষে। আমরাও মনে করি, এই সংস্কার সময়ের দাবি। আর দেরি করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদ হোক বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সব কিছুর কাঠামোতে ১৯৪৫ সালের বদলে ২০২৬ সালের বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা দরকার। পাঁচটি স্থায়ী সদস্য নিয়ে চলা এই পরিষদ আজকের বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করে না। এটিকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক এবং কার্যকর করতে হবে।”

বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য হল আমেরিকা, রাশিয়া, চিন, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। এই তালিকায় ভারতের অন্তর্ভুক্তির দাবি বহু পুরনো। একসময় চিনই ভারতের বিরোধিতা করেছিল। এবার চিনের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতেই মোদি সংস্কারের দাবি তোলায় এবং রাষ্ট্রসংঘ সরাসরি তাতে সমর্থন জানানোয় কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত স্থায়ী সদস্য হলে ভেটো ক্ষমতা পাবে। ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে চিন-সহ অন্য দেশের একতরফা সিদ্ধান্তের উপরেও লাগাম পরাতে পারবে নয়াদিল্লি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *