,

১৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার পুরনিগমের ভোট শিলচরে, ৪২-এ ৪২ জয়ের দাবি তুলে কংগ্রেসকে তুলোধনা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : শিলচরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। ১৮৮২ সালে পৌরসভা হিসাবে যাত্রা শুরু করা শিলচর শহর ১৪০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার পুরনিগম হিসাবে ভোটের মুখোমুখি হতে চলেছে। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মাকেই দিলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি এবং বরাক উপত্যকার অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। শনিবার গুয়াহাটিতে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : শিলচরের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। ১৮৮২ সালে পৌরসভা হিসাবে যাত্রা শুরু করা শিলচর শহর ১৪০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার পুরনিগম হিসাবে ভোটের মুখোমুখি হতে চলেছে। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মাকেই দিলেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি এবং বরাক উপত্যকার অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

শনিবার গুয়াহাটিতে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি বিভাগের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী। সেখানেই উঠে আসে শিলচর পুরনিগম নির্বাচন এবং নগাঁও উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ।

“৪২টি ওয়ার্ডেই জিতবে বিজেপি, কোনও সংশয় নেই”

শিলচর পুরনিগম নির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী দেখা গেল মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে। তিনি বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে বরাক উপত্যকার মানুষ যেভাবে উন্নয়ন এবং সুরক্ষার পক্ষে বিজেপিকে দু’হাত ভরে ভোট দিয়েছে, পুরনিগম ভোটেও তার পুনরাবৃত্তি হবে।

তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার ওপর বরাকের মানুষের অগাধ আস্থা রয়েছে। তিনি যা বলেন, তিনি তা করে দেখান। শিলচরকে পুরনিগমে উন্নীত করা তাঁরই স্বপ্ন ছিল। আজ তা বাস্তবায়িত হয়েছে। তাই এই ভোটের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁরই প্রাপ্য।”

তিনি আরও যোগ করেন, “জেলার অভিভাবক মন্ত্রী হিসাবে আমি নিজে মাঠে-ময়দানে ঘুরে শিলচরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষের একটাই চাহিদা – একটি পরিকল্পিত, আধুনিক শহর। মানুষ চায় জমা জলের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি, যানজট থেকে মুক্তি, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানীয় জল। এই সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান বিজেপি ছাড়া আর কে করতে পারবে? তাই আমি নিশ্চিত, ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৪২টিতেই বিজেপি জয়ী হবে।”

মন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই শিলচর শহরের জন্য আগামী ৫০ বছরের কথা মাথায় রেখে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি পরিচালিত পুরনিগম বোর্ড গঠিত হলেই সেই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শহরের উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।

কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ

এদিন কংগ্রেসকে একহাত নেন কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি বলেন, বিরোধী দল হিসাবে কংগ্রেসের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়।

“কংগ্রেসের অবস্থা দেখুন। তারা পুরনিগম ভোটে প্রার্থীই দিতে পারেনি সব ওয়ার্ডে। নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে। এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন। টিকিট বিতরণে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা জেলা কংগ্রেস সভাপতির চেয়ার ছুঁড়ে বাইরে ফেলে দিয়েছেন। এই দৃশ্য আমরা সবাই দেখেছি। এটাই হল কংগ্রেসের সংস্কৃতি। যে দলের নিজের ঘরই ঠিক নেই, তাদের ওপর জনগণ কীভাবে আস্থা রাখবে?” – প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

নগাঁও উপনির্বাচন নিয়ে যা বললেন মন্ত্রী

নগাঁও বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, নগাঁও কেন্দ্রটি ঐতিহ্যগতভাবে বিজেপির জন্য অনুকূল নয়।

তবে তাঁর দাবি, “পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের শুধু ভোটব্যাংক হিসাবে ব্যবহার করেছে, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তাদের উন্নয়নের জন্য কিছুই করেনি। তাই আজ নগাঁওয়ে দলে দলে সংখ্যালঘু ভাই-বোনেরা কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।”

তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুরাও এখন বুঝতে পেরেছেন, কংগ্রেস তাদের শুধু ভয় দেখিয়ে ভোট নেয়। বিজেপি সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাসের নীতিতে বিশ্বাস করে। তাই সংখ্যালঘুরাও এখন চান, ভারতীয় নাগরিক হিসাবে মর্যাদা ও সুরক্ষার সঙ্গে বাঁচতে। আর সেই মর্যাদা একমাত্র বিজেপিই দিতে পারে। তাই উন্নয়নের স্বার্থে নগাঁওয়েও মানুষ বিজেপিকে ভোট দেবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *