,

ব্যতিক্রম গ্রুপ ও কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে ‘Your Future Needs More Than Marks’ শীর্ষক বিশেষ ইন্টার‍্যাক্টিভ সেশন

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শুধুমাত্র একাডেমিক সাফল্য নয়, মানসিক স্বচ্ছতা, আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ-এই বার্তাকে সামনে রেখে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে কটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘Your Future Needs More Than Marks’ শীর্ষক একটি বিশেষ ইন্টার‍্যাক্টিভ সেশন। ১৬ সেপ্টেম্বর কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হল ৩১১-তে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দুপুর ২টা…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। গুয়াহাটি : শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে শুধুমাত্র একাডেমিক সাফল্য নয়, মানসিক স্বচ্ছতা, আত্মবিশ্বাস, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ-এই বার্তাকে সামনে রেখে ব্যতিক্রম গ্রুপের উদ্যোগে কটন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল ‘Your Future Needs More Than Marks’ শীর্ষক একটি বিশেষ ইন্টার‍্যাক্টিভ সেশন। ১৬ সেপ্টেম্বর কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হল ৩১১-তে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের Depart-ment of Mass Communication, Journalism and Media Studies (MCJMS)-এর উদ্যোগে Commerce ও Law বিভাগের সহযোগিতায় এবং Political Science বিভাগের সমর্থনে অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মোটিভেশনাল স্পিকার, Certified Happiness Coach এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত Intuitive Life Guide নূপুর হেডা পাটিল। ET Inspiring Women Leaders 2025 সম্মানে ভূষিত নূপুর পাটিল ‘Shuffles of Life’ গ্রন্থের লেখক। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো, মাইন্ডফুলনেস ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে আসছেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নূপুর হেডা পাটিল বলেন, “শিক্ষার্থীদের জীবনে নম্বর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু নম্বর কখনও একজন মানুষের সম্পূর্ণ পরিচয় হতে পারে না। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের চিন্তাভাবনা, আবেগ, ভয়, সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনাগুলিকে বুঝতে শিখতে হবে। আমরা অনেক সময় নিজেদের অজান্তেই এমন কিছু মানসিক বাধা তৈরি করি, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। সেই বাধাগুলিকে চিহ্নিত করে সেগুলি অতিক্রম করার ক্ষমতাই ব্যক্তিগত বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি পৃথিবীর মধ্যে বেড়ে উঠছে। তাই তাদের শুধু ভালো ফলাফল করার জন্য নয়, চাপ সামলানো, ব্যর্থতাকে গ্রহণ করা, নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখা এবং প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য চাইতেও শেখা প্রয়োজন। মানসিক সুস্থতা কোনও বিলাসিতা নয়, এটি একটি সুস্থ ও সফল জীবনের ভিত্তি। কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই সরাসরি কথোপকথন আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের ও অর্থবহ অভিজ্ঞতা। আমি বিশ্বাস করি, নিজের ভেতরের শক্তিকে চিনতে পারলে একজন শিক্ষার্থী শুধু পরীক্ষায় নয়, জীবনেও নিজের সেরাটা দিতে পারে।”

ব্যতিক্রম গ্রুপের কর্ণধার ড. সৌমেন ভারতীয়া বলেন, “আজকের প্রতিযোগিতামূলক সময়ে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু তার প্রাপ্ত নম্বর দিয়ে নির্ধারিত হয় না। শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনই প্রয়োজন নিজের সঙ্গে নিজের পরিচয় তৈরি করা, মানসিক দৃঢ়তা অর্জন এবং জীবনের চ্যালেঞ্জগুলিকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার ক্ষমতা। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্বচ্ছতা গড়ে তুলতেই ‘Your Future Needs More Than Marks’-এর মতো উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের ভাবনা, উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বোঝার সুযোগ তৈরি হওয়াটিও এই অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।”

অনুষ্ঠানে কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী ও বিভাগীয় প্রধানদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। উপস্থিত ছিলেন Political Science বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সুরেশ কুমার নাথ, MCJMS-এর বিভাগীয় প্রধান ড. সায়নিকা দত্ত, Law বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. স্মিতা শর্মা এবং Commerce বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড.সৌরভী বরঠাকুর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন MCJMS-এর ড. অনুপা লাহকর গোস্বামী, সেনওয়ার্ন গয়ারী, কল্পজ্যোতি ভূঞা, Commerce বিভাগের রিসভ নাথ, ড. অভিনাশ মণ্ডল, ড. গীতিমণি ডেকা, Political Science বিভাগের ড. পারমিতা ভূঞা এবং Law বিভাগের ড. শর্মিষ্ঠা বরুয়া, ড. জ্যোৎস্না শালৈ, ড. প্রৱেক মেধি।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে শিক্ষার্থীরা নূপুর হেডা পাটিলের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং মানসিক চাপ মোকাবিলা, মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি, আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলা, আবেগের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সহজ, বাস্তবভিত্তিক ও অনুপ্রেরণামূলক উত্তর তাঁদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করে এবং নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ করে দেয়।

শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের পাশাপাশি আত্মসচেতনতা, মানসিক দৃঢ়তা ও সুস্থ মানসিকতার গুরুত্বকে শিক্ষাক্ষেত্রের আলোচনায় আরও গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যেই ব্যতিক্রম গ্রুপের এই উদ্যোগ। একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা ও চাপকে ইতিবাচকভাবে মোকাবিলা করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করে তুলতে এ ধরনের সংলাপনির্ভর ও ইন্টার‍্যাক্টিভ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশ ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথে এই উদ্যোগ একটি অর্থবহ সংযোজন হয়ে থাকবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *