,

বিশ্বভারতীর নতুন নির্দেশ ঘিরে তুমুল বিতর্ক, ক্ষুব্ধ অধ্যাপক মহল

অফিস ছাড়তে বিভাগীয় প্রধানের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক, প্রত্যাহার চাইল শিক্ষক সমিতি নিজস্ব সংবাদদাতা। বোলপুর: অফিস চলাকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করতে বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আর এই নির্দেশিকাই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক থেকে কর্মী – অফিস সময়ে কেউই নিজ ভবন, বিভাগ…

অফিস ছাড়তে বিভাগীয় প্রধানের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক, প্রত্যাহার চাইল শিক্ষক সমিতি

নিজস্ব সংবাদদাতা। বোলপুর: অফিস চলাকালীন কর্মস্থল ত্যাগ করতে বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। আর এই নির্দেশিকাই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসচিবের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক থেকে কর্মী – অফিস সময়ে কেউই নিজ ভবন, বিভাগ বা কেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি ছাড়া। নির্দেশ কঠোরভাবে মানতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের পরপরই সরব হয়েছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে ওই নির্দেশিকা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিবৃতির কপি পাঠানো হয়েছে উপাচার্যের দপ্তরেও।

শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, একজন অধ্যাপকের কাজ শুধু চেয়ার-টেবিলে বসে থাকা নয়। ক্লাস নেওয়া, গবেষণা, লাইব্রেরিতে পড়াশোনা, সভা-সেমিনার – এসবের জন্য তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতে হয়। তাই অফিসকক্ষে হাজিরা দিয়ে কাজ মাপার নিয়ম একাডেমিক কাজের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে। সংগঠনের মতে, এই নির্দেশ অধ্যাপকদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। পড়ানো-গবেষণার মতো কাজ ঘড়ি ধরে হয় না।

সংগঠনের সম্পাদক অধ্যাপক কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্বভারতীর শিক্ষকরা বরাবরই পঠনপাঠন, গবেষণা ও প্রশাসনিক কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থেকেছেন। এমন সময়ে এই বিজ্ঞপ্তি অপ্রয়োজনীয়। তাঁর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা শিক্ষা মন্ত্রকের কোনো নিয়মেই অধ্যাপকদের জন্য এই ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। তাই নির্দেশিকার আইনি ভিত্তি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে সংগঠন।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি, নতুন কোনো নিয়ম চালু হয়নি। ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের কথায়, সরকারি অফিসে অফিস টাইমে বেরোনোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক নিয়ম। এখানে ‘অনুমতি’ শব্দটিকে অযথা বড় করে দেখা হচ্ছে। কর্মস্থল ছাড়ার আগে শুধু জানানোর কথাই বলা হয়েছে।

নির্দেশ বনাম প্রতিবাদ – আপাতত এই টানাপোড়েনেই আটকে বিশ্বভারতী।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *