বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামীকাল শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং ঘোষণার পরেই পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। শান্তিকুঞ্জ-সহ নন্দীগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আবির খেলে ও মিষ্টি বিতরণ করে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। ব্রিটিশ আমলে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে গঠিত হয়েছিল তাম্রলিপ্ত সরকার এবং সেই আন্দোলনে দেশপ্রাণ শাঁসমল ও মাতঙ্গিনী হাজরা আত্মবলিদান দিয়েছিলেন। সেই বিপ্লবের মাটি থেকেই এবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু। রাজনৈতিক মহলের মতে, আক্ষরিক অর্থেই কলকাতা থেকে জেলায় যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার। বাম আমল ও তৃণমূলের বহু বছর পূর্ব মেদিনীপুর বারবার উপেক্ষিত থেকেছে বলে অভিযোগ ছিল এবং শুভেন্দু নিজেও বারবার বলেছিলেন জেলা থেকে রাজ্য পরিচালনার কথা। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব থেকে সব বড় পদ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বিধায়করাই পেতেন এবং জেলার আন্দোলন করে জেতা বিধায়করা থাকতেন পিছনের সারিতে। ১৯৭৭ সালে বাংলা কংগ্রেসের হয়ে যুক্তফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের অজয় কর, বহু বছর পর শুভেন্দুর হাত ধরে ফের সেই উপকূলীয় জেলা মুখ্যমন্ত্রী পেল। বাম আমলে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন শুভেন্দু এবং সেই আন্দোলনই বাম সরকারের পতনের অন্যতম কারণ বলে মানে রাজনৈতিক মহল। গত বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারিয়ে আলোড়ন তোলেন তিনি এবং এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মমতার বিরুদ্ধে লড়ে জোর টক্কর দেন। তৃণমূল সরকারের পতন ঘটিয়ে ২০৭ আসন জিতে বিজেপিকে প্রথমবার রাজ্যে ক্ষমতায় এনেছেন তিনিই এবং এই ইতিহাসের প্রধান কাণ্ডারী হিসেবেই তাঁকে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেলে বিজেপির নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে মি. অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন অমিত শাহ। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে সর্বত্র একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন। বেশ কয়েকজনের নামও সম্ভাব্যদের তালিকায় ছিল এবং সেখানে যার নাম ঘিরে সবচেয়ে বেশি জল্পনা ছিল তিনি হলেন শুভেন্দু অধিকারী, যিনি চলতি বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে হারিয়েছেন তাও আবার তার ‘ঘরের মাঠ’ ভবানীপুর থেকে। আরো কয়েকজন হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীর নাম ঘুরপাক খাচ্ছিল বটে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবাইকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তারই নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার জন্য পর্যবেক্ষক হিসাবে কলকাতায় এসেছেন অমিত শাহ। তার সহকারী হিসাবে এসেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। সাধারণত কোনো রাজ্যে নির্বাচনের পরে পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার দায়িত্ব থাকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের। তারা দলের নবনির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক করেন এবং সেখানে বেছে নেওয়া হবে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন। শুক্রবার এই বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম উঠে এসেছে। বৈঠকের পর অমিত শাহ বলেন, ”পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটা প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবেই একটাই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।” ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার ইতি টেনে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার। সেই অধ্যায়ের এক অন্যতম মুখ ছিলেন একসময় তৃণমূলে থাকা শুভেন্দু অধিকারী, সেকথা অবশ্য নিজেও স্বীকার করেন তিনি। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তার সক্রিয় ভূমিকা সেই সময় ‘পরিবর্তন’ আনতে সাহায্য করেছিল। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ‘পাখির চোখ’ করে যখন রাজ্যে আবার ‘পরিবর্তনের’ ডাক দিয়েছিল, তারও অন্যতম প্রধান মুখ শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তারই হাত ধরে আরো একবার ঐতিহাসিক পালাবদলের সাক্ষী হলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। শুভেন্দু অধিকারীই যে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা অনেকের কাছেই ছিল প্রত্যাশিত। একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে, তেমনই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন তিনি। পাশাপাশি তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ভোটযুদ্ধে পরাস্ত করেছেন তিনি। প্রথমবার ২০২১ সালে তার ‘নিজের মাঠ’ নন্দীগ্রাম থেকে এবং দ্বিতীয়বার (২০২৬ সালে) মমতা ব্যানার্জীর ‘ঘরের মাঠ’ ভবানীপুর থেকে। তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় না এলেও বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধানসভা এবং রাজপথ দুই জায়গাতেই আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ইস্যু- বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিরোধীদের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড ময়দানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন।
বিপ্লবের ভূমিই এবার বঙ্গ রাজনীতির পাওয়ার হাউস, মসনদে মেদিনীপুরের ছেলে শুভেন্দু
বরাককণ্ঠপ্রতিবেদন: রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আগামীকাল শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী এবং ঘোষণার পরেই পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আবহ। শান্তিকুঞ্জ-সহ নন্দীগ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা আবির খেলে ও মিষ্টি বিতরণ করে উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। ব্রিটিশ আমলে পূর্ব মেদিনীপুর থেকে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে গঠিত হয়েছিল তাম্রলিপ্ত…
Previous Post
Next Post
Leave a Reply
Latest News












