বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। কলকাতা, ৫ অক্টোবর: কলকাতার মানিকতলা মেইন রোডে অবস্থিত বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন আয়োজিত বিশ্ব বঙ্গ প্রেক্ষাগৃহে গত ৫ই অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় বরাক উপত্যকা ও কলকাতার শিল্পী সমন্বয়ে এক অসাধারণ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সকলের মনে খুশির জোয়ার এনে দিল।
বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের কর্ণধার, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. রাধাকান্ত সরকারের সুব্যবস্থাপনায় ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই নান্দনিক সন্ধ্যা উপহার পেলেন উপস্থিত অসংখ্য গুণীজন, কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ। অসম, ত্রিপুরা ও কলকাতা সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের একঝাঁক লেখক, কবি, নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি শিল্পী ও কলাকুশলীদের সমন্বয়ে এক অভিনব মেলবন্ধনের সুন্দর প্রয়াস এই মঞ্চে উপলব্ধি করা গেল। বরাক, ত্রিপুরা ও বাংলার সংস্কৃতির এক ত্রিবেণী সঙ্গমে পরিণত হয়েছিল এদিনের প্রেক্ষাগৃহ।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কার ভারতীর দক্ষিণ আসাম প্রান্তের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বতোষ দেব। তাঁর উপস্থিতি ও বক্তব্য অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে এবং বরাক ও বাংলার সাংস্কৃতিক যোগসূত্রকে আরও সুদৃঢ় করার বার্তা দেয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ ছিল বরাক উপত্যকার শিল্পীদের পরিবেশনা। বরাকের বিশিষ্ট তবলা বাদক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলা শাখার সম্পাদক সন্তোষ চন্দের পরিচালনায় বরাকের শিল্পীরা দৃষ্টিনন্দন নৃত্যানুষ্ঠান উপহার দেন। বরাকের শিল্পীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন স্নিগ্ধা দাস, মৌঝুরী ঘোষ, অর্পিতা নাথ, রাজেশ দাস এবং তাঁদের নৃত্য পরিচালনায় ছিলেন ভাস্বতী রক্ষিত। তাঁরা বরাকের ঐতিহ্যবাহী ওঝা নৃত্য ও প্রাণের ধামাইল নৃত্যের মনমুগ্ধকর পরিবেশনার মাধ্যমে সকল দর্শকের মন জয় করে নেন। তাঁদের প্রতিটি পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

এই মঞ্চে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন কুমারঘাট অঞ্চলের দুই বিশিষ্ট কৃতি ব্যক্তিত্ব। বিশিষ্ট কবি, গীতিকার, সুরকার ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা সন্ধ্যা দেবনাথ তাঁর স্বরচিত কবিতা পাঠ করে সকলের প্রশংসা অর্জন করেন। একই সাথে কুমারঘাটের আরও একজন বিশিষ্ট কবি ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রী জগদীশ দেবনাথ তাঁর কবিতা পাঠ করে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁদের কবিতায় ফুটে ওঠে মানবতা ও প্রকৃতির কথা।
এই উজ্জ্বল মঞ্চে অংশগ্রহণকারী সবাইকে স্মারক, মানপত্র ও উত্তরীয় দিয়ে সম্মানিত করা হয়, যা শিল্পীদের আনন্দ ও উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এছাড়া কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গের যে সকল কবি, লেখক, আবৃত্তি, সঙ্গীত ও নৃত্য শিল্পীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বিশিষ্ট কবি শিবশঙ্কর বক্সী, অসিতকুমার রায়, সুনীল চক্রবর্তী, চিত্রা গাঙ্গুলী, শ্রাবন্তী চক্রবর্তী, পিয়ালী রায় কুন্ডু ও কাজী জুলফিকার আলী। আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে মঞ্চ মাতান সুব্রত গাঙ্গুলী, দোয়েল মিত্র ও সম্পা ভাওয়াল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট আবৃত্তিকাররা।
সঙ্গীত পর্ব ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময়। অসাধারণ সূচনা সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্বান্তনা তরফদার। এরপর একে একে সঙ্গীতে মন কাড়েন চৈতালী ব্যানার্জী, স্বপন চক্রবর্তী, জয়া দাস, অনিল বরণ ঘোষ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে অসাধারণ সঙ্গীত উপহার দেন বেতার ও দূরদর্শনের বিশিষ্ট শিল্পী গৌতম দে। তাঁর সুরেলা কণ্ঠে মুগ্ধ হন সকলে। নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত শ্রোতাদের মন জয় করেন চৈতালী ব্যানার্জী, শ্বান্তনা তরফদার সহ অন্যান্য নৃত্য শিল্পীবৃন্দ।

বরাক ও কলকাতার শিল্পী সমন্বয়ের এই উজ্জ্বল মঞ্চে বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগে বিশেষভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয় দুই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে — শিলচরের বিশিষ্ট তবলা বাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সন্তোষ চন্দ এবং কুমারঘাটের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, গীতিকার ও সুরকার সন্ধ্যা দেবনাথ মহাশয়াকে। তাঁদের হাতে উত্তরীয়, মানপত্র ও স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারু, নান্দনিক ও আন্তরিকভাবে পরিচালনা করেন বিশ্ব বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলনের কর্ণধার বিশিষ্ট নাট্যকার, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. রাধাকান্ত সরকার মহাশয়। তাঁর দক্ষ পরিচালনায় বরাক, ত্রিপুরা ও বাংলার সংস্কৃতির এই মহামিলন এক স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক সন্ধ্যায় পরিণত হয়।












