বরাক উপত্যকার পরম্পরা সম্পর্কে রাজ্য সরকারের যে দায়সারা ভাব তাতে এই উপত্যকার মানুষ তার পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতে পারে না: সাধন পুরকায়স্থ

গত ১৬ এপ্রিল অগ্নিযুগের বিপ্লবী উলাসস্কর দত্তের জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমরা বাঙালি দলের অসম রাজ্য সচিব সাধন পুরকায়স্থ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন ভারতবর্ষে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবীদের ইতিহাস পড়ানো হয় না। বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানতে দেওয়া হয় না। শিক্ষার ক্ষেত্রে সিলেবাসে ইতিহাস পড়ানো যেভাবে দরকার ছিল সেভাবে হয় না…

গত ১৬ এপ্রিল অগ্নিযুগের বিপ্লবী উলাসস্কর দত্তের জন্ম জয়ন্তী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমরা বাঙালি দলের অসম রাজ্য সচিব সাধন পুরকায়স্থ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন ভারতবর্ষে স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবীদের ইতিহাস পড়ানো হয় না। বিপ্লবীদের আত্মত্যাগের কথা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানতে দেওয়া হয় না। শিক্ষার ক্ষেত্রে সিলেবাসে ইতিহাস পড়ানো যেভাবে দরকার ছিল সেভাবে হয় না ।ইতিহাস পড়ানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অনীহা। রাষ্ট্রের কোন পৃষ্ঠপোষকতা নেই। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে জাতি গঠন কি করে হবে। বর্তমান প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা যদি দেশ সম্পর্কে যদি দেশের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে না পারে তাহলে দেশাত্মবোধ কি করে জাগবে।
এদিকে আসাম সরকার বরাক উপত্যকাকে ব্রাত্য করে রেখেছেন। বরাক উপত্যকার ইতিহাস,বরাক উপত্যকার ঐতিহ্য ,বরাক উপত্যকার পরম্পরা সম্পর্কে রাজ্য সরকারের যে দায়সারা ভাব তাতে এই উপত্যকার মানুষ তার পরিচয় সম্পর্কে কিছুই জানতে পারে না। এখানে বলা প্রয়োজন আজকের যে বরাক উপত্যকা তা একদিন বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল ছিল। আজকের যে আসাম এই আসামের সঙ্গে বরাক উপত্যকার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাই স্বাধীনতা আন্দোলনে আসামের ইতিহাস বলতে গিয়ে বরাক উপত্যকা সব সময় ব্রাত্য থাকে। এখানকার ঐতিহ্য এখানকার ইতিহাস রাজ্য সরকার দ্বারা উপেক্ষিত। এখানকার স্বাধীনতা সংগ্রামীর আত্মত্যাগের কথা নতুন প্রজন্মকে জানতে দেওয়া হয় না। সুতরাং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা যেখানে নেই , সেখানে এই অঞ্চলের মানুষকেই তার ইতিহাস তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। এখানকার মাতৃভাষা আন্দোলনের ১১ জন শহিদের আজ পর্যন্ত সরকার কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান করা হয় নাই। এই মহান বিপ্লবীর জন্মদিনে আজ আমাদেরকে শপথ নিতে হবে যে আমাদের ঐতিহ্য আমাদের ইতিহাস রক্ষায় আমরা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করব। সরকার যতই উপেক্ষা করুক আমরা আমাদের ইতিহাস আমাদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *