এমআরআই পরিষেবার উদ্বোধন ও শিলচরের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক পরিকাঠামো প্রকল্প পরিদর্শন
বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: খাদ্য, গণবণ্টন ও উপভোক্তা বিষয়ক, আবাসন ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায় শুক্রবার শিলচরের শিলকুড়ি কনভেনশন সেন্টারে বরাক উপত্যকার বিভিন্ন নগর স্থানীয় সংস্থার (ইউএলবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বিস্তৃত পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সমগ্র অঞ্চলে চলমান নগর উন্নয়ন প্রকল্প এবং নাগরিক পরিকাঠামোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বরাক উপত্যকার তিন জেলার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন করেন এবং নগর পরিকাঠামো, পানীয় জল সরবরাহ, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিকাশি ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক বিভাগের অধীন বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনাকালে মন্ত্রী বরাক উপত্যকার শহরগুলিকে আরও পরিচ্ছন্ন, সুনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনাসম্পন্ন এবং নাগরিকবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগর স্থানীয় সংস্থাগুলিকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি উন্নয়নমূলক প্রকল্পসমূহ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, জনসাধারণের সুবিধাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
পর্যালোচনা বৈঠকে বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কিশোর নাথ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও আবাসন ও নগর বিষয়ক বিভাগের কমিশনার ও সচিব কবিতা পদ্মনাভন, সচিব রিচান্দ আহমেদ, শ্রীভূমি জেলার জেলা আয়ুক্ত প্রদীপ দ্বিবেদী, আইএএস এবং বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
এর আগে দিনের শুরুতে মন্ত্রী শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে গিয়ে নবস্থাপিত অত্যাধুনিক এমআরআই মেশিনের উদ্বোধন করেন। এই নতুন রোগ নির্ণয় পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে বরাক উপত্যকার রোগীদের উন্নতমানের মেডিক্যাল ইমেজিং পরিষেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে, অপেক্ষার সময় কমবে এবং অঞ্চলে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধের প্রাপ্যতা, রোগীদের জন্য উপলব্ধ সুযোগ-সুবিধা এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন। তিনি রোগী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা সরাসরি শোনেন। প্রাপ্ত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান এবং দক্ষতার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরও বলেন যে, আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকার মানসম্মত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চলেছে।
পরে মন্ত্রী কৌশিক রায় শিলচরের ঘুঙুরস্থিত অমৃত জল সরবরাহ প্রকল্প পরিদর্শন করে জল সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং পরিষেবার মান পর্যালোচনা করেন। পরিদর্শনের সময় আবাসন ও নগর বিষয়ক বিভাগের কমিশনার ও সচিব কবিতা পদ্মনাভন এবং অমৃত প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সম্প্রীতি গোস্বামী উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রকল্প পরিচালনা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করার নির্দেশ দেন, যাতে শিলচরবাসী নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন এবং নির্ভরযোগ্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ পান।
মন্ত্রী আবাসন ও নগর বিষয়ক বিভাগের কমিশনার ও সচিব কবিতা পদ্মনাভন, প্রাক্তন বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী এবং শিলচর পৌর নিগমের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে শিলচরের সিঙ্গিরখাল, রাঙ্গিরখাল এবং লঙ্গাইখালে চলমান নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নমূলক কাজও পরিদর্শন করেন।
মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং ঠিকাদারদের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন, যাতে বর্ষাকালে পুনরাবৃত্ত জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে বাসিন্দারা দ্রুত স্বস্তি পান।
অসমের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।












