কমল কৃষ্ণ কুইলা। কলকাতা : উত্তরবঙ্গে বর্ষাকালে তিস্তা নদীর ভাঙন ও বন্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা। নদীর তলদেশে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ পলির কারণে জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় প্রতি বছরই নদী উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা নদীর প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং করে পলি অপসারণের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে সেচ দপ্তর।
প্রকল্পের আওতায় নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি ও বালি অপসারণ করে নদীর গভীরতা এবং জলপ্রবাহের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মতে, ড্রেজিং সম্পন্ন হলে বর্ষাকালে অতিরিক্ত জল দ্রুত নেমে যেতে পারবে, ফলে বন্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা গেলে শুধু বন্যা নিয়ন্ত্রণই নয়, নদীভাঙন রোধ, কৃষিজমি সুরক্ষা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সেচ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠবে।
তবে পরিবেশবিদদের একাংশের মত, ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়েও সমান গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে উন্নয়ন ও পরিবেশ—দুইয়ের মধ্যে সঠিক সমন্বয় বজায় থাকে।












