গুয়াহাটি, ১১ সেপ্টেম্বর: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যদি প্রচলিত পাঠদানের বাইরে বেরিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তৈরি করতে না পারে, তবে তারা প্রাসঙ্গিকতা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড.রণোজ পেগু।
বৃহস্পতিবার গুয়াহাটি কমার্স কলেজের ৬৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের গুণমান বিচার করা উচিত তা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য কী ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও সহায়তা তৈরি করছে তার ভিত্তিতে।
তিনি কলেজগুলোকে তাদের পাঠদান পদ্ধতি নতুন করে সাজানোর এবং দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্য প্রযুক্তি ও অন্যান্য উদীয়মান ক্ষেত্রের উপর বেশি জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। দক্ষতা-ভিত্তিক শিক্ষা ছাত্র-ছাত্রীদের শুধু প্রচলিত চাকরির উপর নির্ভর না করে উদ্যোক্তা হতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরে মন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত রক্তদান শিবির পরিদর্শন করেন এবং রক্তদাতা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিপুল দাসের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। নিজের ভাষণে অধ্যাপক দাস প্রতিষ্ঠানের যাত্রা, একাডেমিক সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। শহিদদের এবং কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. ভগবান চন্দ্র লহকরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। ড. লহকরের পুত্র এবং গুয়াহাটি হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সঞ্জীব লহকর পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রক্তদান শিবিরটির আয়োজন করে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্মাইল মেকার্স’, কলেজ কমিউনিটি এবং শহরের একটি ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায়। শিবিরের উদ্বোধন করেন গুয়াহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী, সমাজকর্মী এবং কলেজের প্রাক্তন ছাত্র বিজন মহাজন।
মুক্ত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক বিপুল দাস। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ড.বিভূতি প্রসাদ লহকর পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানব কল্যাণের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
কলেজ পরিচালনা সমিতির সভাপতি ড.উত্তম দাস বলেন, গত ছয় দশকে প্রতিষ্ঠানটি অসমে বাণিজ্য ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের পাশাপাশি সিভিল সার্ভিসে কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদেরও সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। উদযাপনে বরগীত, গোয়ালপারিয়া লোকগীত, অসমের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নৃত্য এবং ভূপেন হাজারিকা, জয়ন্ত হাজারিকা ও জুবিন গার্গের গান পরিবেশিত হয়। সন্ধ্যায় ছাত্র-ছাত্রীরা ৬৫টি মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে দিহা নাম পরিবেশন করে, এবং আলোকসজ্জিত ক্যাম্পাসের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।












