,

নেশামুক্তি কেন্দ্রেই চলছে নেশার কারবার: মুখ্যমন্ত্রী

নেশা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতার পক্ষে বিধানসভা, পাচারের চেইন গেছে মায়ানমার পর্যন্ত বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিসপুর: নেশার ভয়াল গ্রাস থেকে অসমকে বাঁচাতে মঙ্গলবার ৭ জুলাই দিসপুরের অসম বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে শাসক-বিরোধী একমত হল। ‘নেশামুক্ত অসম’ নিয়ে আলোচনায় উঠে এল রাজ্যের নেশামুক্তি কেন্দ্রের আড়ালে নেশার কারবার, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নেশার বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের ভয়াবহ…

নেশা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোরতার পক্ষে বিধানসভা, পাচারের চেইন গেছে মায়ানমার পর্যন্ত

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। দিসপুর: নেশার ভয়াল গ্রাস থেকে অসমকে বাঁচাতে মঙ্গলবার ৭ জুলাই দিসপুরের অসম বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে শাসক-বিরোধী একমত হল। ‘নেশামুক্ত অসম’ নিয়ে আলোচনায় উঠে এল রাজ্যের নেশামুক্তি কেন্দ্রের আড়ালে নেশার কারবার, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নেশার বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের ভয়াবহ চিত্র।

আজ সদনের পরিবেশ ছিল শান্ত। নেশামুক্ত অসমের দাবিতে একের পর এক বিধায়ক ও মন্ত্রী বক্তব্য রাখেন।

আলোচনার সূত্রপাত করেন কংগ্রেস বিধায়ক জাকির হুসেন শিকদার। তিনি সদনে নেশামুক্ত অসমের প্রস্তাব আনেন। তার বক্তব্য, “নেশার করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে না পারলে অসম শেষ হয়ে যাবে।” তার অভিযোগ, পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করছে সেই নেশা ব্যবসায়ীরাই থানায় গিয়ে দালালি করছে। তাই নেশাকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, নেশা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পুলিশের হাত খুলে দিতে হবে।

এই প্রসঙ্গে সর্বভারতীয় সংযুক্ত গণতান্ত্রিক মোর্চার প্রধান বদরুদ্দিন আজমলের মন্তব্যে সদনে আলোড়ন ওঠে। পুলিশি অভিযানে নিহতের বিরোধিতা করে আসা আজমল আজ বলেন, “মামলা নয়, নেশা ব্যবসায়ীদের একটা একটা করে গুলি করে দিন।” তিনি নেশা ব্যবসায়ীদের খুনি আখ্যা দিয়ে বলেন, নেশায় সমাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সমাজে এর ভয়াবহতা বেশি। তাই নেশা ব্যবসায়ীদের বাড়িতে বুলডোজার চালাতে হবে। নেশা ব্যবসায়ীদের হয়ে ওকালতি করা আইনজীবীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থার দাবি তোলেন তিনি। বক্তব্য দেওয়ার সময় সংখ্যালঘু সমাজে নেশার ভয়াবহতার কথা বলে সদনে চোখের জল ফেলেন আজমল।

আজমলের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন বিধায়ক শেরমান আলী আহমেদ। তিনি বলেন, একজন বিধায়কের পুলিশি অভিযানে নিহতকে সমর্থন করা অনুচিত। আইন নিজের ব্যবস্থা করবে। কোনো অপরাধেই বিচারের বাইরে হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

আলোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী ড.হিমন্তবিশ্ব শর্মা নেশা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর অবস্থানের পক্ষে সাফাই দেন। তিনি বলেন, হিংসাত্মক প্রতিরোধের মুখে পড়লে আইনরক্ষীদের সিদ্ধান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। নেশা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর হলে কেউ যেন সমালোচনা না করে। আইনকে ভয় না করা অপরাধীদের পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।

মুখ্যমন্ত্রী চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, সরকারের কাছে খবর আছে রাজ্যের একাংশ নেশামুক্তি কেন্দ্রেই নেশার কারবার চলছে। নেশামুক্তি কেন্দ্র খুলে অনেকে নেশা দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, নেশা সরবরাহের চেইন তদন্ত করতে গিয়ে তা প্রায়ই মিজোরাম ও মণিপুর হয়ে মায়ানমারের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে। এ কারণে কোথাও কোথাও অভিযান চালিয়েও সরকার অসহায় হয়ে পড়ে।

সীমান্ত পেরিয়ে নেশা পাচার রুখতে কেন্দ্রীয় সরকার বিস্তারিত ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও সদনকে জানান মুখ্যমন্ত্রী। উত্তর-পূর্বের সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সক্রিয় সহযোগিতায় এই কাজ চলছে। একইসঙ্গে তিনি নেশায় আক্রান্ত যুবকদের পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করার উপরেও গুরুত্ব দেন।

সদনে আলোচনা চলাকালীন গুয়াহাটী রেল স্টেশনে নেশা সেবনের দৃশ্য দেখা যায়। নেশার নেশায় মত্ত এক যুবক এবং পাশে আরও কয়েকজন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনে ব্যস্ত ছিল।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, খোদ গুয়াহাটী শহরেই আছে নেশার বিশাল সাম্রাজ্য। গান্ধীবস্তি, পাঞ্জাবাড়ি, হাতিগাঁও, পল্টনবাজার, নারেঙ্গী, খানাপাড়া, হেঙেরাবাড়ি, চানমারি, পান্ডু, মালিগাঁও — এগুলো মাত্র কয়েকটি এলাকা। অভিযোগ, পুলিশ নেশা সরবরাহকারীকে গ্রেপ্তার করেই দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু সরবরাহের শিকড় উপড়াতে চায় না। ফলে জেল থেকে বেরিয়েই তারা পুনরায় কারবার শুরু করে।

নেশা জাতি-ধর্ম দেখে না। এটি একটি প্রজন্মকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। তাই নেশামুক্ত অসম গড়তে সকলের সহযোগিতা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *