,

নেতাজি অবমাননার প্রতিবাদে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি

নিঃশর্ত ক্ষমা ও রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি শিলচরের নেতাজি প্রেমীদের বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর  : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শিলচরের নেতাজি প্রেমী সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মাননীয়া দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের রাজ্যসভা সাংসদ নগেন্দ্র রায়ের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাকে রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কারের…

নিঃশর্ত ক্ষমা ও রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি শিলচরের নেতাজি প্রেমীদের

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর  : নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে শিলচরের নেতাজি প্রেমী সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মাননীয়া দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের রাজ্যসভা সাংসদ নগেন্দ্র রায়ের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং তাকে রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়েছে এই স্মারকলিপিতে। শিলচর নেতাজি ফাউন্ডেশনের সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন।

স্মারকলিপিতে যা বলা হয়েছে:
স্মারকলিপিতে বলা হয়, নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে গোটা দেশবাসীর গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ জড়িত। তাদের আত্মত্যাগ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গৌরবময় অধ্যায়।

কিন্তু বিগত কিছুদিন ধরে সাংসদ নগেন্দ্র রায় বারবার নেতাজি ও আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে অপমানজনক কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, “নেতাজি বা তার বাবারও আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনের ক্ষমতা ছিল না” এবং “স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতাজির কোনো অবদান নেই”। এমনকি নেতাজিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধী বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

একজন রাজ্যসভা সাংসদের কাছ থেকে এই ধরনের মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারের পিছনে গভীর চক্রান্ত আছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। অবিলম্বে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং তার সাংসদ পদ খারিজ করে রাজ্যসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

এই স্মারকপত্রের অনুলিপি রাজ্যসভার সভাপতি তথা উপরাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি দলের সর্বভারতীয় সভাপতির কাছেও পাঠানো হয়েছে।

পূর্বের প্রতিবাদ সভা:
উল্লেখ্য, গত ১০ আগস্ট শিলচরের রাঙ্গিরখাড়ি নেতাজি মূর্তির পাদদেশে শহরের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে জমায়েত হন। নীহার রঞ্জন পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, যিনি আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠাতা, আজাদ হিন্দ বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, আন্দামান-নিকোবরে প্রথম স্বাধীন ভারতের পতাকা তুলেছিলেন, সেই নেতাজির বিরুদ্ধে কটূক্তি দেশদ্রোহিতার সামিল।

সেদিনের সভায় যারা বক্তব্য রাখেন:
শিলচর পৌরসভার প্রাক্তন সভাপতি তমাল কান্তি বণিক, শিলচর পৌরসভার প্রাক্তন কমিশনার অতনু ভট্টাচার্য, বঙ্গ সাহিত্য সংস্কৃতি সম্মেলনের কর্মকর্তা গৌতম প্রসাদ দত্ত, দীপক সেনগুপ্ত, বিডিএফ-এর কর্ণধার আইনজীবী প্রদীপ দত্তরায়, রুপম সাংস্কৃতিক সংস্থার কর্মকর্তা নিখিল পাল, রাজকুমার পাল, নেতাজি ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বিশ্বতোষ চৌধুরী, প্রাক্তন বিধায়ক মাওলানা আতাউর রহমান মাজার ভূঁইয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবী মজনুল হক মজুমদার, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী বাপি রায়, গার্লস প্রাউটিষ্টের পক্ষ থেকে রুবি রায়, নেতাজি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা প্রণব রায় চৌধুরী, ইয়াসির-এর পক্ষ থেকে সঞ্জীব রায়, বন্দিতা দ্বিবেদী, উধারবন্দ মাতৃভাষা সুরক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে সীমান্ত ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট সমাজকর্মী দেবদীপ দত্ত, বিশিষ্ট কবি শতদল আচার্য, বিডিএফ-এর কর্মকর্তা জয়দীপ ভট্টাচার্য, প্রতিবাদ সভার অন্যতম আহ্বায়ক প্রাক্তন পৌর কমিশনার সাধন পুরকায়স্থ, বিশিষ্ট সাংবাদিক দিলীপ সিং, সাংস্কৃতিক কর্মী শিপ্রা পুরকায়স্থ, আশু পাল, অরুন্ধতী, পান্না রায়, সঞ্জয় রায়, কমল চক্রবর্তী, খাদেজা বেগম, এ আই ডি এস ও-এর পক্ষ থেকে পল্লব ভট্টাচার্য, প্রকৌশলী স্বাগত সোম সহ প্রায় তিন শতাধিক মানুষ।

সেই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই গত ১২ আগস্ট ইমেইলের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে এই স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন শিলচর নেতাজি ফাউন্ডেশনের সভাপতি নীহার রঞ্জন পাল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *