কেওনঝড় : দিদির মৃত্যুর পর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত ১৯,৩০০ টাকা তুলতে না পেরে কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হলেন প্রৌঢ়। ওড়িশার কেওনঝড়ের দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা জিতু মুন্ডার এই ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ: দিয়ানালি গ্রামের জিতু মুন্ডার দিদির কয়েক মাস আগেই মৃত্যু হয়েছে। দিদির স্বামী-সন্তানের মৃত্যু হয়েছে আগেই। দিদির অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ১৯,৩০০ টাকা তুলতে গত সোমবার ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন জিতু। কিন্তু ম্যানেজার জানিয়ে দেন, মৃত্যুর শংসাপত্র ও বৈধ উত্তরাধিকার শংসাপত্র ছাড়া টাকা দেওয়া যাবে না। জিতুর কাছে দিদির মৃত্যুর শংসাপত্র ছিল না। কোথা থেকে কী নথি জোগাড় করতে হয়, তাও তাঁর জানা ছিল না। এরপরই কবর খুঁড়ে দিদির কঙ্কাল নিয়ে ব্যাঙ্কে হাজির হন তিনি। সিসিটিভি
ফুটেজে ৩২ মিনিট: তদন্তকারীদের হাতে আসা ব্যাঙ্কের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সোমবার সকাল ১১টা ২৬ মিনিটে ব্যাঙ্কে ঢোকেন জিতু। ৩২ মিনিট সেখানে থাকার পর ১১টা ৫৮ মিনিটে বেরিয়ে যান। এই সময়ে তিনি ম্যানেজার ও অন্য কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনার সংগ্রামকেশরী মহাপাত্র জানান, “সিসি ক্যামেরার ফুটেজগুলিতে কোনও অডিয়ো নেই। ফলে তিনি ব্যাঙ্কের কর্মীদের সঙ্গে কী কথা বলেছেন, তা ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট নয়। ”
তদন্তে উঠে এল গাফিলতি: মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশের পর বৃহস্পতিবার কেওনঝড়ের জেলাশাসক বিশাল সিংহ ও অন্য আধিকারিকদের নিয়ে ওই ব্যাঙ্কে যান সংগ্রামকেশরী। ব্যাঙ্কের আধিকারিক ও জিতু মুন্ডার সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রাথমিক তদন্তে ব্যাঙ্ককর্মীদের গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত মিলেছে।সংগ্রামকেশরী বলেন, “প্রাথমিক ভাবে দেখা যাচ্ছে, ব্যাঙ্কেরই গাফিলতি ছিল। জিতু এবং তাঁর বোন অতীতেও অন্তত আটবার ওই ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা তুলেছিলেন। ব্যাঙ্ককর্মীরা জিতু এবং তাঁর দিদিকে আগে থেকেই চিনতেন। এর পরেও এমন ঘটনায় ব্যাঙ্ককর্মীদের গাফিলতি থাকতে পারে। মুন্ডা নিরক্ষর নন, কিন্তু তিনি ব্যাঙ্কিং পদ্ধতি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানেন না।” জিতুর সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তা ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, রাজস্ব দফতরের বিভাগীয় কমিশনারকে যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।












