,

তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই নাগরিকত্ব বাতিল নয়, স্পষ্ট করল সর্বোচ্চ আদালত, পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ লক্ষ আপিল নিয়ে নোটিশ

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নতুন দিল্লি: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। শুক্রবার এমনই স্পষ্ট জানাল সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ বলেছে, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত আগের রায়ে আদালত আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে ভোটার তালিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে কমিশনের এটাও দায়িত্ব যে,…

বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। নতুন দিল্লি: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। শুক্রবার এমনই স্পষ্ট জানাল সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ বলেছে, বিহারে বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত আগের রায়ে আদালত আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে ভোটার তালিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে কমিশনের এটাও দায়িত্ব যে, যাদের নাম বাদ পড়ছে তাদের বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়ে নাগরিকত্বের বিষয়টি যাচাই করাতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত ভোটারদের আপিল নিয়ে মামলা
একই দিনে আদালত পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের নিয়ে দায়ের হওয়া একটি আবেদনে নোটিশ জারি করেছে। আবেদনটি করেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নেতা প্রসেনজিৎ বোস। তাঁর তরফে মামলা লড়েন বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শংকরনারায়ণ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী নেহা রাঠি।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জেরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর ফলে তাঁরা রেশন, নগদ আর্থিক সাহায্য সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আদালতের আগের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার রেশন ব্যবস্থা ও অন্নপূর্ণা নগদ সহায়তা প্রকল্প থেকে সুবিধা বন্ধ করে অন্তত তিনটি নির্দেশ জারি করেছে বলেও দাবি করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের কাজ নিয়ে প্রশ্ন
আইনজীবীর বক্তব্য, আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সর্বোচ্চ আদালত ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলেছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কতগুলি আপিলের নিষ্পত্তি হয়েছে তার কোনও সরকারি হিসাব নেই। তিনি আদালতের কাছে ট্রাইব্যুনালগুলির কাজের নিয়মাবলী প্রকাশ্যে আনার আবেদনও জানান।

বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও ভি মোহনা। তাঁরা বলেন, নিয়মাবলী মূলত অভ্যন্তরীণ কাজের জন্য তৈরি। কলকাতা উচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিষয়টি দেখভাল করছেন। আদালতের মূল উদ্বেগ হল, আপিলগুলি যেন দ্রুততার সঙ্গে নিষ্পত্তি হয়।

নির্বাচনের আগে সময় বেঁধে নিষ্পত্তির দাবি
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা। তাই “যুক্তিগত অসঙ্গতি” তালিকায় থাকা ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির আবেদনগুলি সময় বেঁধে নিষ্পত্তি করতে হবে। একই সঙ্গে ১৯টি ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৪২টি করার দাবিও জানানো হয়েছে।

আদালত জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধনকে চ্যালেঞ্জ করে আগের দায়ের হওয়া মামলাগুলির সঙ্গেই আগামী মাসে এই আবেদনের শুনানি হবে। আইনজীবী দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে বলেন, ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাদ পড়া ভোটাররা সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। “আমাদের আশঙ্কা, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নাম বাদ দেওয়াকে অজুহাত করে তাঁদের সুবিধা আটকে দেওয়া হচ্ছে”, বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *