বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন: গৌড়ীয় নৃত্যের সাধনায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন শিলচরের নৃত্যশিল্পী ও শিক্ষক পুনম ধর। ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ Centre for Cultural Resources and Training, CCRT তাঁকে ২০২৬ সালের সিনিয়র ন্যাশনাল স্কলারশিপে সম্মানিত করেছে। ফলাফল প্রকাশ পায় গত ২ মে।
টানা অধ্যবসায়, নিয়মিত রিয়াজ এবং কয়েকবার পরীক্ষার ধাপ পেরিয়ে এই জাতীয় স্বীকৃতি মিলেছে তাঁর। পুনম ধর এই সম্মানকে নিজের শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবেই দেখছেন। তাঁর কথায়, “গৌড়ীয় নৃত্যের প্রচার ও সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও সমান নিষ্ঠায় কাজ করে যাব”।
গুরু-শিষ্য পরম্পরা
এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট নৃত্যগুরু শ্রদ্ধেয় সত্যজিৎ বসু, ‘জয় স্যার’-কে। শৈশব থেকেই গৌড়ীয়, রবীন্দ্র ও লোকনৃত্যের প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। বাবা ত্রিনাথ ধর ও মা রমনা ধরের ত্যাগ ও আশীর্বাদকেও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন পুনম।
পরম্পরা ও সহযোগিতা
গৌড়ীয় নৃত্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা বিশ্বখ্যাত নৃত্যগুরু ড. মহুয়া মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. সুজিত কুমার ঘোষের দিকনির্দেশনাও তাঁর চর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে।
সৌম্য ভৌমিক, কৌশিক সাউ, তথাগত, শুভম, দেবশ্রী দে, গৌড়ীয় নৃত্যকলা ভারতীর সদস্য, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক—সবার শুভকামনা ও সহযোগিতার কথা বলেন পুনম। প্রয়াত মেহেরা আঙ্কেলের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে করেন। তাঁর বিশ্বাস, গৌড়ীয় নৃত্যকলা ভারতীর অগ্রযাত্রায় মেহেরা আঙ্কেলের ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পুনম ধর মনে করেন, এই স্বীকৃতি ব্যক্তিগত প্রাপ্তির চেয়েও বড়। এটি গৌড়ীয় নৃত্যের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।












