জনসংযোগ। শিলচর : মহাত্মা গান্ধীর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার কাছাড় জেলার সর্বত্র পালিত হল গান্ধীজয়ন্তী। বিভিন্ন সরকারি বিভাগ , পুরসভা ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের আধিকারিক এবং কর্মীরা জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত নানা কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
শহরের পার্ক রোডে শহিদ স্মারকের কাছে গান্ধী বাগ পার্কে মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিলচর পুরনিগমের এগজিকিউটিভ অফিসার, গান্ধী শান্তি প্রতিষ্ঠান-এর সদস্য এবং অন্যান্য আধিকারিকরা মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় শহরের সাফাইকর্মীদেরও। শিলচর পুরনিগমের উদ্যোগে শ্রীষ্টি ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস-এর সহযোগিতায় শহরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী মহিলা সাফাইমিত্রদের হাতে তাঁদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পিপিই কিট তুলে দেওয়া হয়।
এর পর গান্ধী বাগ পার্ক চত্বরে স্বচ্ছতা অভিযান পরিচালিত হয়। জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং জন-অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছ ভারত-এর ভাবনাকে আরও সুদৃঢ় করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
এর আগে শিলচরে কাছাড়ের জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনোজ্যোতি কুটুম, এসিএস এবং কাছাড়ের সহকারী আয়ুক্ত অরুণাভ চৌধুরী, এসিএস মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। জেলা আয়ুক্তের কার্যালয়ের প্রশাসনিক আধিকারিক প্রবীর কুর্মি, তপোজ্যোতি দত্ত-সহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং কর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এদিন অহিংসার শপথ পাঠ করা হয়। অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত মনোজ্যোতি কুটুম, এসিএস, কাছাড়ের সহকারী আয়ুক্ত অরুণাভ চৌধুরী, এসিএস এবং অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরা শান্তি ও অহিংসার সেই আদর্শকে পুনরায় স্মরণ করে শপথ গ্রহণ করেন, যা মহাত্মা গান্ধীর জীবন ও দর্শনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
এদিকে, শিলচরের অসম সরকারের তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচরে গান্ধীজয়ন্তী পালিত হয়। কার্যালয় চত্বরে আধিকারিক ও কর্মীরা মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে শ্রদ্ধা জানান।
সোনাই পুরসভাতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গান্ধীজয়ন্তী পালিত হয়। মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর স্বচ্ছতা ও জনসেবার আদর্শকে সামনে রেখে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীরা স্বচ্ছতা শপথ গ্রহণ করেন। সোনাইকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও তাঁরা পুনর্ব্যক্ত করেন।
একই ভাবে বদরপুর পুরসভাতেও মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী স্মরণ করে গান্ধীজয়ন্তী পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে আধিকারিক ও কর্মীরা অহিংসা এবং স্বচ্ছতার শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে শান্তি, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসেবার প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতার কথাও পুনরায় ব্যক্ত করা হয়।
গান্ধীজয়ন্তী উপলক্ষে কাছাড় জেলার বিভিন্ন সরকারি বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানেও শপথ গ্রহণ করা হয়। আধিকারিক ও কর্মীরা মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত অহিংসা, পরিচ্ছন্নতা ও জনসেবার আদর্শের প্রতি তাঁদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
গান্ধী বাগের অনুষ্ঠানে সাফাইমিত্রদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এদিনের কর্মসূচিকে মহাত্মা গান্ধীর পরিচ্ছন্নতার বার্তার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করে তোলে। একই সঙ্গে প্রতিদিন শহর ও জনসাধারণের ব্যবহারের স্থানগুলি পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও সামনে আসে।












