জনসংযোগ। শিলচর : শনিবার শিলচর পুর নিগম নির্বাচন। তার আগে শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে ভোটগ্রহণকর্মীদের হাতে ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়। ব্যালট বাক্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করে একে একে নিজ নিজ নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন নির্বাচনে নিযুক্ত ভোটগ্রহণ কর্মীরা।
কাছাড়ের জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক রাহুল কুমার গুপ্তা, আইএএস, অন্যান্য পদস্থ নির্বাচন আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ভোটগ্রহণ সামগ্রী বিতরণের প্রক্রিয়া তদারকি করেন। একই সঙ্গে নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখেন তিনি। প্রয়োজনীয় সামগ্রী গ্রহণের পর বিতরণ কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণকর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। খাবার সেরে তাঁরা নিজেদের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেন।
শুক্রবার আইএসটিটিতে ভোটগ্রহণ সামগ্রী বিতরণের সময় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক রাহুল কুমার গুপ্তা জানান, আগামীকাল, ৩ অক্টোবর শিলচর পুর নিগমের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় ওই দুই ওয়ার্ড বাদ দিয়ে মোট ৪০টি ওয়ার্ডে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণের জন্য ৩০৩টি ভোটকেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গোটা ভোটগ্রহণ ব্যবস্থাকে ১৮টি সেক্টর এবং ছয়টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। এই নির্বাচনে প্রায় ২.৭০ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী ব্যবস্থার কথা বিস্তারিত জানাতে গিয়ে জেলাশাসক বলেন, ১৮টি সেক্টরের প্রতিটির দায়িত্বে থাকবেন একজন সেক্টর আধিকারিক এবং একজন পুলিশ সেক্টর আধিকারিক। তাঁরা ভোটগ্রহণের সামগ্রিক ব্যবস্থার উপর নজর রাখার পাশাপাশি বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখবেন এবং কোনও ভোটকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। নির্বাচনের জন্য প্রায় ১,৫০০ জন ভোটগ্রহণকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। শুক্রবার তাঁরা ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত নিরাপত্তা এবং ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা নির্বাচন আধিকারিক জানান, ভোটকেন্দ্রগুলিতে সেক্টর আধিকারিকরা নির্বাচনী ব্যবস্থায় সজাগ নজরদারির ভূমিকা পালন করবেন। ভোটগ্রহণ চলাকালীন কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে নির্ধারিত নিয়ম ও পদ্ধতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩ অক্টোবর ভোটারদের বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি ভোটারদের ইপিআইসি কার্ডের সঙ্গে নির্ধারিত অন্যান্য পরিচয়পত্রও সঙ্গে রাখার আবেদন জানান।
শুক্রবার আইএসটিটিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কাছাড়ের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ পার্থ প্রতিম দাস, আইপিএস জানান, শিলচর পুর নিগম নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০০ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই এই মোতায়েন করা হয়েছে। পুর নিগম এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পুলিশকর্মীদের পাশাপাশি হোমগার্ডদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসএসপি জানান, যেসব এলাকায় গোলমালের সম্ভাবনা রয়েছে, সেসব এলাকার জন্য পৃথক পুলিশ বাহিনীও নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে পুলিশ সেক্টর এবং জোনাল সেক্টর আধিকারিকরা ভোটকেন্দ্রগুলির পাশাপাশি ভোটগ্রহণ চলাকালীন সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন। জেলা স্তরের পুলিশ আধিকারিকরাও নিয়মিত টহল দেবেন এবং বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন।
সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ জানান, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলেই পুলিশ আশা করছে। তিনি আরও জানান, ৩ অক্টোবর সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।
উল্লেখ্য, ভোটগ্রহণের পদ্ধতি এবং নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভোটগ্রহণকর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর এবার তাঁদের হাতে ভোটগ্রহণের সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে। ৩ অক্টোবর নির্ধারিত নির্দেশিকা মেনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করার দায়িত্ব তাঁদের উপর অর্পিত হয়েছে।
এ দিকে, ভোটগ্রহণকর্মীদের নিজ নিজ নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সে জন্য কাছাড় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জলখাবার, খাবার, পরিবহণ এবং তাঁদের অন্যান্য কল্যাণমূলক প্রয়োজনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শিলচর পুর নিগম এলাকায় ১০টি মহিলা পরিচালিত ভোটকেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে। ওই কেন্দ্রগুলিতে মহিলা ভোটগ্রহণকর্মীরাই ভোটগ্রহণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
ভোটগ্রহণ সামগ্রী বিতরণের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর ব্যালট বাক্স, ভোটগ্রহণের অন্যান্য সামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে ভোটগ্রহণ দলগুলি নিজ নিজ নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, জেলা নির্বাচন ব্যবস্থার পক্ষ থেকে প্রস্তুতির উপর ততই নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমস্ত ভোটার ও সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে ভোটগ্রহণকর্মীদের সহযোগিতা করার এবং ভোটকেন্দ্রে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। ভোটারদেরও দায়িত্বশীল ভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পাশাপাশি ভোটগ্রহণ আধিকারিকদের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।












