বরাককণ্ঠ প্রতিবেদন। শিলচর: ভাষা আলাদা হতে পারে, উপত্যকা আলাদা হতে পারে, কিন্তু সুরের কোনও ভৌগোলিক সীমারেখা হয় না। মন ছুঁয়ে গেলে সব ভাষাই নিজের হয়ে যায়। সেই চিরন্তন সত্যকে আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন শিলচরের কৃতী কন্যা, বরাকের গর্ব ইন্দ্রাণী দত্ত।
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার একেবারে নিজস্ব মৌলিক অসমিয়া গান ‘উনমনা’। আর মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে গানটি। ইউটিউবে প্রকাশিত মিউজিক ভিডিওটি ইতিমধ্যেই ভালোবাসা কুড়াচ্ছে সঙ্গীতপ্রেমীদের। বরাক উপত্যকার পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার শ্রোতারাও একবাক্যে বলছেন — মন ছুঁয়ে গেছে।
এই গানের সবচেয়ে বড় চমক হলো ইন্দ্রাণীর গায়কী। বরাকে বড় হয়ে ওঠা একটি মেয়ে, অথচ অসমিয়া ভাষার প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ এতটাই নিখুঁত, এতটাই স্পষ্ট যে শুনে বোঝার উপায় নেই এটি তার মাতৃভাষা নয়। সুরের প্রতিটি ভাঁজে, প্রতিটি মোচড়ে তিনি ঢেলে দিয়েছেন অসম্ভব আবেগ আর আন্তরিকতা।
শুধু কণ্ঠ দেওয়াই নয়, এই পুরো স্বপ্নটাকে বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে আনার সাহসও দেখিয়েছেন ইন্দ্রাণী নিজেই। ‘উনমনা’ প্রজেক্টটির প্রযোজনার গুরুদায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
অবশ্য এই সুন্দর সৃষ্টির নেপথ্যে রয়েছে একঝাঁক প্রতিভাবান শিল্পীর অক্লান্ত পরিশ্রম। গানটির হৃদয়ছোঁয়া কথা লিখেছেন অনুপম নাথ। সেই কথাকে সুরের মালায় গেঁথেছেন সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক প্রিয়াঙ্কু বরদলৈ। তার স্নিগ্ধ সঙ্গীতায়োজন গানটিকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
শুধু শোনার নয়, দেখারও মতো হয়েছে ‘উনমনা’র মিউজিক ভিডিও। ভিডিওটির গল্প, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব সামলেছেন সুমন আর্য। ক্যামেরার লেন্সে সেই গল্পকে জীবন্ত করে তুলেছেন ড্রিমার্স আর্টিস্ট স্টুডিওর রাকিব আহমদ। ভিডিওটিতে অভিনয় করেছেন টিনা কলিতা। তার সাবলীল উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। শিল্পীদের রূপসজ্জায় ছিলেন হিমাদ্রি সিং এবং সার্বিক প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন দীপজ্যোতি বৈশ্য ও চিন্ময় দাস।
বরাকের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা ইন্দ্রাণীর এই অসমিয়া গানে আত্মপ্রকাশকে শুধু একটি গানের মুক্তি হিসেবে দেখছেন না কেউ। এটিকে দেখা হচ্ছে বরাক ও ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে। সঙ্গীত মহলের বিশ্বাস, ‘উনমনা’ দিয়ে যে যাত্রা শুরু হলো, সেই সুরযাত্রা বহুদূর যাবে।












